প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রায় বাউন্ডারির কাছ থেকে দীর্ঘ রানআপ নিয়ে ছুটে আসছিলেন তিনি। ক্রিজের দিকে যতই এগোচ্ছেন, ততই বেড়ে যাচ্ছে তার গতি। মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে চাপা গোঙানির শব্দ। বাতাসে উড়ছে লম্বা, এলোমেলো চুল। মুহূর্তের মধ্যে হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বজ্রপাতের মতো একেকটি বল। তাকে এভাবে ছুটে এসে বল করতে দেখা ছিল এক অপূর্ব দৃশ্য।
পাকিস্তানের ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’খ্যাত শোয়েব আখতারকে নিয়ে এমনই বর্ণনা করেছেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ব্যাটার কুমারা সাঙ্গাকারা। তার মতে, শোয়েবের বোলিং ছিল একেকটি বজ্রপাতের (থান্ডারভোল্ট) মতো, শোয়েব যেন শুধুমাত্র খেলোয়াড়ের চেয়েও বড় কিছু।
সাঙ্গাকারার দৃষ্টিতে শোয়েবের সবচেয়ে ভয়ংকর সময় ছিল ইনিংসের শুরুর কয়েক ওভার। বিশেষ করে প্রথম তিন ওভার। ওই সময়টুকু পার করাই ছিল ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা।
সাঙ্গাকারা বলেন, ‘প্রথম তিন ওভার ছিল দুর্দান্ত এবং ভীতিকর। আমাদের কৌশল ছিল কোনোভাবে ওই সময়টা পার করে দেওয়া। আমরা জানতাম, যদি অলআউট না হই এবং শোয়েবও কোনো উইকেট না পায়, তাহলে সে ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তার গতি কমে আসবে। আর যখন নিজের ইচ্ছামতো উইকেট নিতে পারত না, তখন মাঝে মাঝে তাকে কিছুটা উদাসীনও মনে হতো।’
‘জাম্বো জেট’
সাঙ্গাকারার বর্ণনায় শোয়েব ভারী ও চওড়া পেশিবহুল গড়নের অধিকারী। তার শরীর ছিল যেন ছোটোখাটো একটি ট্যাংক। কিন্তু সেই শক্তির পুরোটাই তিনি কাজে লাগাতেন একটি লক্ষ্যেই, যত দ্রুত সম্ভব বল করা। শোয়েবের দীর্ঘ রানআপ নিয়েও রয়েছে মজার একটি গল্প। একবার তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এত লম্বা রানআপের প্রয়োজন কেন। শোয়েবের উত্তর ছিল আরও চমকপ্রদ। তিনি বলেছিলেন, জাম্বো জেটকে যেমন আকাশে উঠতে দীর্ঘ রানওয়ে লাগে, তেমনি তারও দ্রুত বল করতে লম্বা রানআপ প্রয়োজন।
ভয়টা শুধু গতির?
তবে সেই ভীতিতে দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না লঙ্কান এই ব্যাটার। সাঙ্গাকারার বিশ্বাস, ভয়কে জয় করে টিকে থাকাটাই আসল বীরত্ব। শোয়েবের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার গতি। কিন্তু সাঙ্গাকারার মতে, তাকে ভয়ংকর করে তুলেছিল শুধু ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতির বল নয়। আরও একটি বিষয় ছিল তার অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন। সাঙ্গাকারা মনে করেন, ব্রেট লি কিংবা ডেল স্টেইনের মতো দ্রুতগতির বোলারদের বল হাত থেকে বের হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটা ব্যাটার সহজে দেখতে পেতেন। তাদের বোলিং অ্যাকশন ছিল ছন্দময়, পরিপাটি এবং অনেকটা একই ধরনের।
কিন্তু শোয়েব ছিলেন আলাদা। তার রানআপ, বল ধরার ধরন, শেষ মুহূর্তের প্রচণ্ড জোর এবং শরীরের ভঙ্গি মিলিয়ে ছিল এক আনকোরা বোলিং অ্যাকশন। যেখানে বল ডেলিভারি দেওয়ার মুহূর্তটা ব্যাটার অনেক সময় ঠিকঠাক ধরতে পারতেন না। কারণ, বল করার সময় তার হাত শরীরের প্রায় পুরোপুরি পেছনে চলে যেত। ফলে ব্যাটার বলটি দেখতে পেতেন দেরিতে। সাঙ্গাকারার ভাষায়, ‘মাঝে মাঝে ব্যাপারটা ভীতিকর ছিল।’
ভয় জয়ে সাঙ্গাকারার কৌশল
তবে শোয়েবের বিপক্ষে ব্যাট করার সময় ভয় পেয়ে গেলে তো চলত না। সাঙ্গাকারার মতে, আসল বিষয় ছিল সেই ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। শোয়েবের বিপক্ষে নিজের একটি কৌশলের কথাও জানিয়েছেন সাঙ্গাকারা। তিনি ক্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে না থেকে কিছুটা সামনে এগিয়ে ব্যাট করতেন। কারণ শোয়েবের গতি যতটা না তাকে সমস্যায় ফেলত, তার চেয়ে বেশি বিরক্ত করত শোয়েবের সুইং। সাঙ্গাকারা বলেন, ‘গতির কথা বাদ দিন, তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তার সুইংটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ফেলত। তাই ক্রিজের বাইরে এসে ব্যাট করাটা ছিল তাকে মোকাবিলার একটি উপায়। চ্যালেঞ্জটা ছিল অসাধারণ, শুধু আমার জন্য নয়, পুরো ড্রেসিংরুমের জন্যই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন