প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজ, গুম-খুন এবং অন্যান্য সামাজিক অনাচার বৃদ্ধি পেলেও, এসব বন্ধে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে মানুষ মুক্তির প্রত্যাশা করেছে। কিন্তু প্রচলিত নীতির কারণে দেশের পরিচালনায় জনগণের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী বা শতবর্ষ উদযাপন করলেও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।
মঙ্গলবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চরমোনাই পীর আরও বলেন, জনগণ বিভিন্ন দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে পরীক্ষা করেছে। কিন্তু বিদ্যমান নীতির মাধ্যমে কেউই সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি। তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ভুলে গিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগও করেন।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। মানুষের প্রত্যাশা, ইসলামী আন্দোলনের হাত ধরেই দেশে নীতির পরিবর্তন আসবে।
সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দলের শীর্ষ নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে চাঁদাবাজি ও ধোঁকাবাজির ধারা থাকবে না বলে তারা আশা করেছিলেন, তবে বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি সরকার এখনো তালবাহানা করছে। এভাবে চলতে থাকলে জনবিস্ফোরণ ঘটতে সময় লাগবে না। গাজী আতাউর রহমান জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। দলটি প্রকাশ্যেই জানিয়েছে, তারা দেশে ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়ন করতে চায়।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান যে, প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, শরিয়াহর পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ওয়ার্ডগুলো থেকেই শরিয়াহর বিজয় শুরু হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, তারা ভিশন ও মিশন নির্ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। জনগণ যদি তাদের নির্বাচিত করে, তাহলে ঢাকা মহানগরকে স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ্ব এম এইচ মোস্তফা, আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক, মহানগর উত্তর সহসভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম এবং মাওলানা ফরিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন