প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার অসাধারণ খেলা এবং ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পর বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে ফিফাকে চিঠি দিয়েছেন ব্রিটেনের লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করার জন্য দাবি তুলেছেন তিনি।
আটলান্টায় সেমিফাইনাল জয়লাভের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার—ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং জিওভানি লো সেলসো—মাঠের ভিতরে ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ব্যানারটি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এড ডেভি তার চিঠিতে ফিফার প্রতিযোগিতার আইন ৩৪.৩ ধারার উল্লেখ করেছেন, যেখানে যেকোনো প্রকার রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তিনি উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ ইউরো বিজয়ী স্পেনের রদ্রি ও আলভারো মোরাতার নিষেধাজ্ঞার ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন, যাহারা ‘জিব্রাল্টার স্পেনের’ স্লোগান দেওয়ায় উয়েফার শাস্তির সম্মুখীন হয়েছিলেন। এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইলও ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন এবং বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তবে, এখন পর্যন্ত ফিফা এই ঘটনার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত অথবা শাস্তির ঘোষণা দেয়নি। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে ২০১৪ সালেও একজাতীয় ঘটনা ঘটেছিল যেখানে ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) শুধু আর্থিক জরিমানা করেছিল। ফলে, খেলোয়াড়দের ফাইনালে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে এএফএ-র ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার সম্ভাবনা বেশি।
ব্রিটিশ রাজনীতিকদের এই দাবি তীব্র হলেও, ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালের আগে ফিফার পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। এজন্য, স্পেনের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনা তাদের পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, ব্যানার প্রদর্শনের এই ঘটনাটি বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এখন দেখার বিষয় হল, ফিফা কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয় কি না, অথবা এই বিষয়ে শুধুমাত্র আর্থিক জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন