প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে স্থানান্তর করার বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ তথ্য জানা গেছে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনের বরাতে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পাবেন। তবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে না। বরং সরকারের ব্যয় মেটাতে, বিশেষ করে জুনের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন কাজে অর্থায়নের জন্য স্বর্ণের মজুত জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে।
এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রথম বাস্তব ফলগুলোর একটি হতে পারে। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে স্বর্ণ নিয়ে সাত বছর ধরে চলা বিরোধের অবসান ঘটবে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ তৎকালীন জাতীয় পরিষদের প্রধান ও বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই বিরোধ শুরু হয়। এরপর বিরোধী পক্ষ ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে আইনি বিরোধ একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সমঝোতাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারিগরি বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
আলোচনায় যুক্ত বিরোধী দলের এক নেতা বলেছেন, ‘স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে যাবে, কিন্তু দেলসি সরাসরি এর নিয়ন্ত্রণ পাবেন না। এটি তদারকি ও বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে।’
ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী পক্ষ গত মাসে জানিয়েছিল, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা প্রায় ৩১ টন স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের পথ খুলতে তারা একসঙ্গে কাজ করছে। তবে সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলা বিরোধী পক্ষ স্বর্ণের মজুত যাতে অপব্যবহার না হয়, সে জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে স্বর্ণ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলা কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্য কারাকাসে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করবে। দেশটির সরকার ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চলমান আলোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের বর্তমান প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ লন্ডনে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ‘সুসংবাদ’ আসছে বলে মন্তব্য করেন।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের আদালতের নতুন আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত ব্যাংক কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়নের অবস্থানে নেই। কার স্বর্ণের হিসাবের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব রয়েছে, তা স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুক্তরাজ্যের আদালতে গিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।
ভেনেজুয়েলায় সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার লক্ষ্য নতুন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন। তবে বিরোধী পক্ষের স্বাধীনভাবে যাচাই করা ভোটের হিসাব অনুযায়ী, তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পুনঃসম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া জোরদার হয়। এরপর দেশটির অর্থনীতির ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। এপ্রিলে সাত বছর পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে। এর ফলে কারাকাসে সরকার আইএমএফে থাকা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পায়।
জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন পথ খুঁজছেন। ভূমিকম্পের আগেই দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির ছিল।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন