প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ (সদর-রুহিয়া-ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটের মাঠ। নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিগত সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা ছুটছেন দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি, তুলে ধরছেন নতুন ঠাকুরগাঁও গড়ে তোলার প্রত্যাশা।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। নির্বাচনের মাঠে একাধিক প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৮ জন।
দেলাওয়ার হোসেনকে ঘিরে জামায়াতের প্রত্যাশা,
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও বিএনপির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের সুযোগ নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তরুণ এই প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য। পাশাপাশি তিনি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘদিন রিমান্ডে ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।
আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর থেকেই জামায়াতসহ জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হয়েছেন।
প্রথমবারের মতো এ আসনে বিজয় অর্জনের প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন জামায়াতসহ ১১ দলের নেতাকর্মীরা। দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে তাঁরা মিছিল, সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শহর থেকে গ্রাম, হাটবাজার থেকে মাঠ-ঘাট—বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচারণায় সাধারণ মানুষের সাড়া পাওয়ার দাবি করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নির্বাচনে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের সমর্থন আদায়ে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। এসব ভোটারের সমর্থন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে।
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় দেলাওয়ারের,
জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। থাকবে না সন্ত্রাস, মাদক, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব।”
তিনি নির্বাচনে সবার দোয়া কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন