প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য এবং পেশাগত অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য বক্তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য একটি জাতীয় ন্যূনতম বেতন কাঠামো প্রণয়ন, নিয়োগ ও কর্মপরিবেশের লিখিত নীতিমালা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণসহ ছুটি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে রুটস অ্যান্ড রুটস ফাউন্ডেশনের (আরএনআর ফাউন্ডেশন) আয়োজনে ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য: একটি জাতীয় সংকটের রূপরেখা’ শীর্ষক উন্মুক্ত সেমিনারে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।
সেমিনারে ঢাকার উত্তরখানের জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলামের মহাপরিচালক মাওলানা তোফায়েল গাজালী মন্তব্য করেন, ‘মাদ্রাসা কারও বাবার সম্পদ নয়। যারা মাদ্রাসায় পড়ান, তারা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল কর্মী নন। তারা একটি প্রজন্মকে শিক্ষা দিচ্ছেন। তাই তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে শিক্ষকদের বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। মাদ্রাসার নামে স্বায়ত্তশাসন থাকবে, কিন্তু শিক্ষকরা মানবেতর বেতন পাবেন, এই ব্যবস্থা চলতে পারে না।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অত্যন্ত কম বেতনে দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদান করে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের মাসিক বেতন এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা তার ন্যূনতম জীবনযাপন ব্যয় মেটানোর জন্যও যথেষ্ট নয়। অথচ এসব শিক্ষক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন শিক্ষা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
তারা আরও বলেন, কওমি শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। ফলে সমস্যাটির প্রকৃত আকার নির্ধারণ এবং কার্যকর নীতি প্রণয়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য দ্রুত একটি জাতীয় জরিপ পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
সেমিনারে মহিলা কওমি মাদ্রাসার নারী শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ পৃথকভাবে জরিপ করে লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূর করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আরএনআর ফাউন্ডেশনের প্রধান মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
সেমিনারে আলোচনা করেন, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, ধানমণ্ডি তাকওয়া মসজিদের খতিব মাওলানা সাইফুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী, বাংলাদেশ গ্রীণ পার্টির আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসান, মীর হুজাইফা, হাফেজ কেফায়েত, আবদুস সাত্তার আইনী, আবদুল গাফফার, সাঈদ আবরার নদভী, আহমাদ গালিব, জাওয়াদ আহমাদ, রুহুল আমিন সাদী, আনছারুল হক ইমরান, শারাফাত শরীফ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের শিক্ষাগত ও নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখছেন। তাদের পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা শুধু শিক্ষকদের স্বার্থের বিষয় নয়, এটি দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
আরএনআর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কওমি মাদ্রাসার স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষক সমাজের বেতন বৈষম্য, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি বাস্তবসম্মত জাতীয় নীতিগত আলোচনা এখন সময়ের দাবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন