প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টিপিএলএফ যোদ্ধারা একটি কৌশলগত শহর দখল করার খবর পাওয়া গেছে।
ইথিওপিয়ার সেনাপ্রধান অভিযোগ করেছেন যে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়া, সুদান ও মিসর বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইথিওপিয়ান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ফিল্ড মার্শাল বিরহানু জুলা শুক্রবার ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে টিপিএলএফকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরিত্রিয়া ও টিপিএলএফের জন্য সুদান এবং মিসরের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। এর মাধ্যমে সংঘাতে বাইরের দেশগুলোর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নির্দেশিত হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রদান করেননি।
২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টিপিএলএফ এবং ইথিওপিয়ার ফেডারেল বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সই হয়। চুক্তির পর তিগ্রাইয়ের রাজধানী মেকেলেতে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের প্রতি অনুগত একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করা হয়।
তবে এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মেকেলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে টিপিএলএফ। এদিকে, টিপিএলএফ যোদ্ধারা উত্তরাঞ্চলীয় আফার অঞ্চলের কৌশলগত শহর এরেবতি দখল করেছে বলে এক কমান্ডার জানিয়েছেন। সোমবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি এ তথ্য জানান। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কমান্ডার নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।
টিগ্রাই পিস ফোর্সের একজন কর্মকর্তা বিদ্রোহীদের হাতে এরেবতি শহরের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টিগ্রাই বিদ্রোহীদের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে পরিচিত এই বাহিনী বর্তমানে আফার অঞ্চলে ফেডারেল সরকারের বাহিনীর সঙ্গে জোটবদ্ধ। তবে শহরটি দখলের সময় সেখানে বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয়নি বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে, ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে সংঘর্ষের কারণে আহত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)।
সোমবার এমএসএফ জানায়, কোরেম ও আলামাতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ থেকে বেড়ে ৪২০-এর বেশি হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, গত সপ্তাহে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুহুল হাসপাতালে প্রায় ৩০০ জন আহত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে।
আফার পশুপালক উন্নয়ন সমিতির সহপ্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি ব্রাউনিং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এদিকে, ইথিওপিয়ার ফেডারেল সরকার টিপিএলএফের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করতে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে। ইরিত্রিয়ার আসাব সমুদ্রবন্দরে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের প্রচেষ্টাকে ঘিরেও দুই দেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তিগ্রাই অঞ্চলের সঙ্গে ইরিত্রিয়ার সীমান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে সোমালিল্যান্ডের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য ইথিওপিয়ার উদ্যোগও সোমালিয়ার সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের দায় অন্য দেশের ওপর চাপানোর অভিযোগ করেছে ইরিত্রিয়া। দেশটির তথ্যমন্ত্রী ইয়েমানে মেসকেল এক্সে এক পোস্টে বলেন, সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য ইথিওপিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়ার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সুদানের মিলিশিয়াদের সহায়তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ইথিওপিয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে, ইথিওপিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী। এক বিবৃতিতে বাহিনীটির একজন মুখপাত্র দাবি করেন, বরং ইথিওপিয়াই সুদানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা মিলিশিয়াদের সমর্থন দিচ্ছে। তার এই বক্তব্য মূলত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) দিকে ইঙ্গিত করে। ২০২৩ সাল থেকে আরএসএফ সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিগ্রাই সংঘাতে ইরিত্রিয়ার সেনারা ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মিলে টিপিএলএফের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।
ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ওই সংঘাতে সহিংসতা, দুর্ভিক্ষ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে প্রায় ৫ লাখ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন