প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের আলেকজান্ডার মাদরাসায় বাবুত তাকওয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানে শিশুশিক্ষার্থীদের শিকলে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
ভিডিওগুলোর ভাইরাল হওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও ইসলামী আন্দোলন রামগতি পৌরসভার সভাপতি হাবিবুল্লাহ নীরবের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে শিশু শিক্ষার্থী আদনানকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছে। এক পর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার দৃশ্যও দেখা যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিশুকে দেওয়ালের সঙ্গে ধরে মাথায় একাধিক আঘাত করা হচ্ছে। আরও একটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করতে দেখা যায়। এছাড়া দুটি ছবিতে দেখা যায়, দুটি শিশুকে জানালার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এসব ঘটনার সময় অন্যান্য শিক্ষকরা বসে বসে দেখছিলেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসাটিতে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকরা শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে। ভয়ের কারণে শিশুরা বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলত না। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শিক্ষকদের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পায়। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অভিভাবকরা।
মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং তিনি প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, একজন শিক্ষক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ নীরব জানিয়েছেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে এবং তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে নিজেকে জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক পলাতক আছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিভাবকরা তার কাছে এসেছিলেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।
মাদরাসাটি ২০২৫ সালে রামগতি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন