প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তুরস্কের আনতালিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ শুরু হতে যাচ্ছে। এতে অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পাশাপাশি বিশ্বনেতারাও উপস্থিত থাকবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা অর্থায়ন, অভিযোজন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ে অনেক বেশি।
জানা গেছে, সম্মেলনটি আনতালিয়ায় সোমবার (৯ নভেম্বর) শুরু হয়ে ১২ দিনব্যাপী চলবে।
বাংলাদেশের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে। উপকূলে লবণাক্ততা, নদী ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও তাপপ্রবাহের মতো সংকট মোকাবিলায় বিপুল অর্থ ও কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। এই বাস্তবতায় এবারের জলবায়ু সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের দ্বারা।
প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করবেন। তার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের জলবায়ু সংকট ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা, অভিযোজন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ ও পানিদূষণ মোকাবিলার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর দূষণের কারণে বাংলাদেশ যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, সেসবের ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করা হবে। বাংলাদেশ যে পরিমাণ সহায়তা পাওয়ার যোগ্য, তা আদায়ে দরকষাকষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দেশের দাবিগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের দাবি আদায়ে সমন্বিত অবস্থান প্রয়োজন। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক জোটের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরতে পারলে দরকষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা সময় সংবাদকে জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়নের ক্ষেত্রে কোনো দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার চেয়ে দেশটির ঝুঁকির মাত্রা বেশি গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন। জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে এ বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশের জন্য, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে যে জোট রয়েছে, সেটিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এতে অভিযোজন ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের পক্ষে বাংলাদেশের দাবি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে কপ-৩১ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য কার্যকর অর্থায়ন ও বাস্তবভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান প্রত্যাশা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন