প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন অভিযোগ সরকার পাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হচ্ছে সংবিধান এবং বাংলাদেশ বর্তমানে সেই সাংবিধানিক কাঠামো অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার সুরক্ষা ও অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষাই আইন প্রণয়নের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, আইনে নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের বাছাই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, আগের শাসনামলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে বিএনপির ১০ লাখের বেশি নেতাকর্মী রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে করা হয়েছিল। এসব সংখ্যা ও দাবির বিষয়ে অনুষ্ঠানে স্বাধীন কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সংবিধানের তুলনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৭৮৭ সালে গৃহীত মার্কিন সংবিধান এবং ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে কিছু মৌলিক মিল রয়েছে। দুই সংবিধানেই জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা প্রয়োগ করে, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টও সংবিধানের আলোকে একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করে থাকে। মতপ্রকাশ, সমাবেশ, সংগঠন ও চলাচলের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে মতপার্থক্য, বিতর্ক ও সমঝোতার ধারাবাহিকতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানের শক্তি শুধু সর্বসম্মতিতে নয়; বরং ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার সক্ষমতার মধ্যেও নিহিত।
রাষ্ট্রদূত ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেন। দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মার্কিন সংবিধান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক বিকাশে প্রভাব রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন