প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরীকে শিক্ষার্থীরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। আবাসিক হলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে তারা তাকে অবরুদ্ধ করে তার কার্যালয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে আলাওল হল সংসদের প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রভোস্টের সঙ্গে হল সংসদের সমন্বয়হীনতা, হল সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো, শিক্ষার্থীদের প্রতি দুর্ব্যবহার, উন্নয়নমূলক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা, সিট বণ্টনে অসচ্ছতা, সাংবাদিক পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি, ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি এবং জরুরি সংস্কারকাজ থমকে থাকার কারণে তারা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
হল সংসদের নেতাদের দাবি, এসব সমস্যার সমাধানে তারা একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত আবেদন জানালেও হল প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রভোস্ট দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন এবং শিক্ষার্থীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কার্ড জমা নিয়ে রাখেন এবং নিজের ইচ্ছামতো কাজ করেন। হল সংসদের সঙ্গে তার কোনো সমন্বয় নেই। প্রশাসনিক কাজে ঢিলেঢালাভাবের কারণে হলের সার্বিক পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হল কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে, প্রভোস্ট ভেতরে থাকা অবস্থায় হল কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) বলেন, "তিনি হল সংসদের কোনো কাজে কাউকে সহায়তা করেন না। তিনি সবার ওপরে স্বৈরাচারী আচরণ করেন। আমরা তার পদত্যাগ চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তার এই হলে থাকার কোনো অধিকার নেই।"
সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, "তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে হয়রানি করেন। কেউ তার কক্ষে কোনো দাবি নিয়ে গেলে তিনি সবকিছু লিখিত দিতে বলেন। যেকোনো সাধারণ বিষয় নিয়েও শিক্ষার্থীদের অনেক বেশি হয়রানি করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা তার পদত্যাগ চাই।"
ক্রীড়া ও খেলাধুলা বিষয়ক সম্পাদক বনি আল আমিন সরকার বলেন, "হলের শিক্ষার্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- তারা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে অংশ নেবেন; কিন্তু প্রভোস্ট বিভিন্ন সময় খেলাধুলা ও ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়সহ সবকিছুতে বাধা দেন। তার কারণে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ।"
অবরুদ্ধ অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরী বলেন, "আপনি হলে আসেন। আমরা সরাসরি দেখা করে কথা বলব।" তিনি আবাসিক হলে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন কিনা—এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
চবির সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম সুজন বলেন, "আলাওল হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। আমরা প্রক্টরিয়াল বডি হল সংসদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তবে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন