প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কানাডার পূর্বাঞ্চলের বায়ু এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশের সরকার। অটোয়া এই পরিকল্পনাকে ‘উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সোমবার ঘোষিত এই প্রাথমিক চুক্তিটি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার, কুইবেক প্রদেশ এবং নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের মধ্যে হয়েছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।
পরিকল্পনার আওতায় চার্চিল ফলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের আধুনিকায়ন এবং ল্যাব্রাডরে গাল আইল্যান্ডে নতুন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ করা হবে। উল্লেখ্য, এই দুটি প্রকল্প কানাডার আটলান্টিক উপকূলের ল্যাব্রাডর এলাকায় অবস্থিত।
উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের একটি অংশ কুইবেকে সরবরাহ করা হবে এবং কুইবেকের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাইড্রো-কুইবেক এই বিদ্যুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিক্রি করবে।
কার্নির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার (৫০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
তবে এই উদ্যোগটি কয়েক মাসের মধ্যেই থমকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার নিউফাউন্ডল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কুইবেকের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস্টিন ফ্রেশেত স্বীকার করেছেন যে, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদী পার্টি কুইবেকোয়ার আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হলে চুক্তিটি বাতিল হতে পারে। বর্তমান জনমত জরিপগুলোতে দলটির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
যদিও প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ টরন্টো, মন্ট্রিয়ল এবং ভ্যাঙ্কুভারের সকল বাড়িতে আলোর সঙ্গে সঙ্গে গরম এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন কার্নি।
গত বছর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই কার্নি পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সমালোচনার শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, কার্নি তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছেন।
গত বছর, কার্নির মন্ত্রিসভার একজন সদস্য আলবার্টা থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছিলেন।
এদিকে, সোমবারের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে কানাডিয়ান ক্লাইমেট ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, যে ধরনের উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ কানাডার বিদ্যুৎ গ্রিডে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন, এই পরিকল্পনা তারই প্রতিফলন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট রিক স্মিথ জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো হলে অস্থির জ্বালানি বাজারের মধ্যেও জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন