প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, জানাজা ও লাশ দাফনের অধিকার প্রত্যেক মানুষের ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার।
পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাটির জন্য তিনি নিন্দা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেছেন, "জানাজা পড়ার অধিকার, লাশ দাফনের অধিকার যেকোনো মানুষের ন্যূনতম মানবিক অধিকার, ধর্মীয় অধিকার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে এই ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে তারা এই দৃশ্য পুনরায় দেখতে চান না।"
তিনি আরও লিখেছেন, "মুজিববাদী ফ্যাসিস্টরা শহীদ মিনারে পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের লাশ আনতে দেয়নি, সাধারণ জনগণকে শ্রদ্ধা জানাতে দেয়নি। বিরোধীদলের অনেক নেতার জানাজা ঢাকায় করতে দেওয়া হয়নি।"
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেছেন, "গণঅভ্যুত্থানের পরে ঢাকায় রক্ষীবাহিনীর নেতা ফ্যাসিস্ট তোফায়েলের জানাজা হয়েছে। তার নিজের এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা একে এম রহমতুল্লাহর জানাজা হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশও হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের মানবাধিকারের পক্ষেও তারা কথা বলেছেন এবং বলবেন। কারণ শত্রুর সঙ্গে ইনসাফ করা শিখতে হবে।"
মানবাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক লিখেছেন, "আজকে অনেকে মানবাধিকারের কথা বলছেন। এটা ভালো। তবে ১৬ বছর অনেকেই বলেননি। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সারা দেশে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল, তখন ঢাকা শহরের বহু মানবাধিকারকর্মী চুপ ছিলেন। মানবাধিকারের প্রশ্ন এলে সেই সব হত্যার বিচারও হতে হবে।"
তিনি আরও লিখেছেন, "তারা লাশের উপরে মুজিববাদীদের নৃত্য-উল্লাস দেখেছেন, কবর ভাঙচুরের ঘটনা দেখেছেন এবং জানাজা পড়তে না দেওয়াকে কিভাবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল, তা দেখেছেন। এখনো প্রতিনিয়ত শহীদ ওসমান হাদির কবর উৎখাত করার সম্মতি উৎপাদন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।"
নাহিদ ইসলাম আরও লিখেছেন, "কিন্তু এতকিছুর পরেও আমরা ফ্যাসিস্টদের পথ অনুসরণ করতে পারি না। ফ্যাসিবাদের বিপরীতে আমাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানাই। আমরা সব নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন