প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০২৬ : এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কাছে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে। এটি প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে কার্যকর হবে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সমন্বয়ের পরিকল্পনা আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৬ থেকে গত ১৫ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল স্বাক্ষরিত চিঠিটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার দীর্ঘদিনের প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অর্থবছরের মেয়াদ ১২ মাসের পরিবর্তে নয় মাস নির্ধারণ করে জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে নির্ধারণ করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নতুন অর্থবছর কাঠামো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠার কাজ ২০২৭-২৮ অর্থবছর শুরুর আগেই, অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের ফলে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম, জাতীয় উৎপাদন ও পরিসংখ্যানগত কাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সমন্বয় করতে হবে। আইবাস++, ভ্যাট ও ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থাগুলো নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং পরিসংখ্যানগত ও তথ্যপ্রযুক্তিগত কাঠামো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
পর্যালোচনার ভিত্তিতে কোথায় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন ও সমন্বয় প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে নতুন অর্থবছর ব্যবস্থায় সরকারি কার্যক্রমের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ নির্দেশনার আওতায় রাজউক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ও হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে এ নির্দেশনার আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন, আইন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, অডিট, ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং আইসিটি শাখাসহ বিভিন্ন শাখাকেও এ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর মাধ্যমে নতুন অর্থবছর কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়াই এ নির্দেশনার উদ্দেশ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন