প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক অন্তঃস্বত্বা নারীর মৃত্যু ঘটে সাবিনা খাতুন নামের, যিনি এনেসথেসিয়া ছাড়া সিজার করতে গিয়ে মারা যান। এই ঘটনা ঘটেছে গতকাল বুধবার সকালবেলায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের এআই ক্লিনিকে। মৃত সাবিনা খাতুন ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কওছার আলীর স্ত্রী।
কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগমারি গ্রামের আনারুল ইসলাম জানান, তার চাচাত বোন সাবিনাকে দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রপচারের মাধ্যমে স্থানীয় চিকিৎসক রেজাউল ইসলামের পরামর্শে ভর্তি করা হয়েছিল এআই ক্লিনিকে। ১৫ হাজার টাকা চুক্তির পর টাকা জমা দিয়ে ডাঃ তানিয়া সুলতানা সিজার করবেন বলে ক্লিনিক মালিক শাহাবুদ্দিন নিশ্চিত করেন। এনেসথেসিয়া ডাক্তার হিসেবে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সজীব দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়।
এ অনুযায়ী বুধবার সকাল ১১টার দিকে সাবিনাকে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কিন্তু আনারুল ইসলামের অভিযোগ, কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনেসথেসিয়া ডাক্তার সজীবের পরিবর্তে ডাঃ তানিয়া সুলতানা নিজেই সাবিনাকে এনেসথেসিয়া দিয়ে অপারেশন শুরু করেন এবং এরপর তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এই সময়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে শাহাবুদ্দিন ও ময়না দ্রুত সাবিনাকে এম্বুলেন্সে করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কালিগঞ্জ থানাকে অবহিত করেন। সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালামকে এ ঘটনায় জানানো হয়।
সিভিল সার্জন অফিস থেকে একজন কর্মকর্তাকে পাঠালে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ ক্লিনিকে তালা মারতে বাধ্য হন। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কিছু অংশ বিশেষভাবে ডাঃ তানিয়া ও ক্লিনিক মালিকদের বাঁচাতে কোন সংবাদ মাধ্যমে নিউজ না করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। একপর্যায়ে সাবিনার বাবা ও মাকে ডেকে এনে শ্বশুর ও শাশুড়ির সামনে লাশ ময়নাতদন্ত না করে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় গোবিন্দপুরের ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনকেও ডাকা হয়। পরে পুলিশের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যম কর্মীদের ইচ্ছায় সাবিনার লাশ তার শ্বশুর ও স্বামীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সাবিনার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার শ্বশুর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থনে দাফন করা হয়। ফলে দেড় লক্ষাধিক টাকায় দফারফার মাধ্যমে সাবিনার মৃত্যুর খবর কোন পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়নি।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনেসথেসিয়া ডাক্তার সজীব হোসেন জানান, এআই ক্লিনিক থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর সাবিনা খাতুন নামের এক প্রসূতি মারা যায় বলেই তিনি জেনেছেন। গোবিন্দপুরের গ্রাম ডাঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, সিজারের সময় সাবিনা মারা গেছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক এবং একটি মহল সমাধান করে ফেলায় ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশের দাফন হয়েছে।
গোবিন্দপুর ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জানালেন, তার উপস্থিতিতে সাংবাদিক, মৃতের বাবা, মা ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন একত্র হয়ে বিষয়টি সমাধান করেছেন। এ ব্যাপারে বাগমারা গ্রামের পুলিশ হরিপদ মৃধা জানান, তিনি বিষয়টি জানলেও প্রকৃত ঘটনা মৃতের স্বজনরাই বলতে পারেন। কালিগঞ্জ এআই ক্লিনিকের ডাঃ তানিয়া সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তার পরিচয় অস্বীকার করে ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানেন না জানান।
এআই ক্লিনিকের মালিক মোঃ শাহাবুদ্দিন তার ক্লিনিকে সাবিনা নামে কোন রোগী ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, নদীর ওপারে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ডালিয়া আক্তার সাথী জানান, এআই ক্লিনিক থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই সাবিনার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বাস্তবতা জানতে পেরে তিনি থানাকে অবহিত করে সাবিনার লাশ পুলিশে সোপর্দ করেন।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ জয়ন্ত সরকার জানান, কালিগঞ্জের এআই ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে সাবিনা নামের এক অন্তঃস্বত্বা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে তারা সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকে স্টাফ পাঠান। কিন্তু গিয়ে দেখে ওই ক্লিনিক তালা মারা অবস্থায় ছিল। কোন লিখিত অভিযোগ না থাকায় তারা ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এ বিষয়টি নিয়ে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য কালিগঞ্জের একটি সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পরিচয়ে সিভিল সার্জন স্যারকে ফোন করেছিলেন বলে তিনি জানান। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহীনুর রহমান জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনার সম্পর্কে তার জানা নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন