প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সার নিয়ে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি করার বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনায় রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বগুড়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গোডাউন এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) বাফার গোডাউন আকস্মিক পরিদর্শন শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, সারের সার্বিক তদারকি, উত্তোলন এবং ডিলারদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং তিনি নিজে এই কমিটিতে রয়েছেন।
কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ডিলার পরিবর্তন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে গুজব ছড়িয়েছিল যে পুরোনো ডিলারদের সরিয়ে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে কিছুটা অসন্তোষ ও ব্যবসায়িক অনীহা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
তিনি জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিআইসি ও বিএডিসির বর্তমান মূল ও খুচরা ডিলাররাই কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
কিন্তু অনিয়মকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যেসব ডিলার সারের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) করেও সার উত্তোলন করেননি অথবা উত্তোলন করে গোডাউনে রেখে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন না, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিলার সমিতির শীর্ষ নেতারাও এ পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন বলে তিনি জানান।
কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়াসহ সারা দেশে চাহিদার তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। বগুড়ায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার রয়েছে।
তবে বিশেষ করে আলুচাষিরা আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুত করছেন। নভেম্বর-ডিসেম্বরের সার এখনই কিনে মজুত করলে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হয় এবং সারের দামও বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রতি জেলায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের চাহিদা অনুযায়ী সার পৌঁছে দেওয়া হবে। তাই কৃষকদের অযথা বেশি দামে আগাম সার না কেনার আহ্বান জানান তিনি।
ডিলারদের দীর্ঘদিনের কমিশন বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ সালের পর তাঁদের কমিশন বাড়ানো হয়নি। পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষি মন্ত্রণালয় কমিশন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। এতে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
গোডাউন পরিদর্শনকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মাহফুজ আলমসহ কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন