প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে চার কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ পেয়ারা আহমেদ (২৬) নামের এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার সহযোগী মো. লোকমান (২৮) পালিয়ে যান। আটক পেয়ারা আহমেদ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের চকলক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল ছাত্তারের ছেলে। পলাতক লোকমান একই গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রাজেন্দ্রপুর সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আটক পেয়ারা ও পলাতক লোকমান দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মাদক এনে বিক্রির কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম শিবের বাজার বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. আব্দুল কালাম বাদী হয়ে রাতে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে, আটক পেয়ারা আহমেদকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর তথ্য জানিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বিজিবির সদস্যরা নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, রাজেন্দ্রপুর সীমান্তের মেইন পিলার ২০৯৬ দিয়ে ভারত থেকে দুই ব্যক্তি গাঁজা নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন। এর পর বিজিবির একটি দল ওই পিলার থেকে প্রায় ৭০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে নীল রঙের পলিথিনে মোড়ানো একটি পোটলা হাতে একজনকে এবং তার সঙ্গে আরেকজনকে আসতে দেখেন বিজিবির সদস্যরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন বিজিবি সদস্যরা তাঁদের ধাওয়া করে পেয়ারা আহমেদকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় লোকমান পালিয়ে যায়।
পরে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পেয়ারা আহমেদের হাতে থাকা নীল পলিথিনে মোড়ানো পোটলাটির তল্লাশি করা হয়। সেখান থেকে চার কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার হয়। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য হচ্ছে ১৪ হাজার টাকা।
বিজিবি সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পেয়ারা আহমেদ তার সহযোগী হিসেবে লোকমানের নাম ও ঠিকানা জানান। ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার এসআই রায়হান জানিয়েছেন, ১৭ আগস্ট সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকলক্ষ্মীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ১২ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ চাঁনপুর এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে হৃদয়কে আটক করা হয়। এ সময় পেয়ার ও জাহাঙ্গীর পালিয়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেছেন, ‘বিজিবি একজন আসামিকে গাঁজাসহ থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। এজাহারে আরো একজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন