প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) দাবি করেছে যে, বাংলাদেশ-কলকাতা-হায়দ্রাবাদ রুটে সক্রিয় একটি সোনা চোরাচালান চক্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ার কাছ থেকে সংস্থাটি বিদেশি সোনা ও বিদেশি মুদ্রাসহ মোট ৫.৮৪ কোটি রুপি মূল্যের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। ডিআরআই-এর হায়দ্রাবাদ ইউনিট এবং বিজয়ওয়াড়া আঞ্চলিক ইউনিটের যৌথ অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইএএনএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সংস্থাটি জানায় যে তারা বাংলাদেশ থেকে কলকাতা হয়ে হায়দ্রাবাদে সোনা পাচারকারী একটি চক্রকে চিহ্নিত করে। এই অভিযানে ৩,১৪৭.১ গ্রাম সোনা, ৬০,০০০ মার্কিন ডলার এবং ২১,৫০০ ইউরো জব্দ করা হয়, যার সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৫.৮৪ কোটি রুপি।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিআরআই কর্মকর্তারা বিজয়ওয়াড়ার বহির্ভাগে একটি এসইউভি গাড়ি আটক করেন। গাড়িটির একটি গোপন কুঠুরি (সিক্রেট ক্যাভিটি) থেকে বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। গাড়িতে থাকা দুই আরোহী কর্মকর্তাদের জানান যে তারা ইতোমধ্যে সোনা বিক্রি করে দিয়েছেন এবং জব্দ করা বিদেশি মুদ্রা সেই সোনা বিক্রির অর্থের একটি অংশ।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা হায়দ্রাবাদের দিকে যাওয়া একটি বাস থামিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। উদ্ধার করা সোনা দিয়ে তৈরি বিস্কুট বা বারগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৩.১ কেজি, যা তারা কোমরে বাঁধা থলিতে লুকিয়ে পরিবহন করছিলেন।
চোরাচালানের সোনা সংগ্রহ ও পরিবহনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজনকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাদের বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ডিআরআই জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
চলতি মাসে অন্ধ্রপ্রদেশে ডিআরআই কর্তৃক উদঘাটিত সোনা চোরাচালানের এটি দ্বিতীয় বড় ঘটনা। এর আগে, বিশাখাপত্তনমের কাছ থেকে ৮.৯৮ কোটি রুপি মূল্যের বিদেশি সোনা জব্দ করেছিলেন কর্মকর্তারা। কলকাতা থেকে হায়দ্রাবাদে সোনা পরিবহনের সময় দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ডিআরআই জানায়, ৮-৯ অক্টোবরের রাতে পিছু ধাওয়া করে একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫,৮৩২.৯০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। সোনাগুলো গাড়ির সিটের নিচে লুকানো ছিল।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে সোনা পাচার
ডিআরআই জানিয়েছে, বিশাখাপত্তনমের কাছ থেকে জব্দ করা সোনা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছিল এবং তা কলকাতা থেকে হায়দ্রাবাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ১৯৬২ সালের কাস্টমস আইনের বিধান অনুযায়ী কর্মকর্তারা সোনাগুলো বাজেয়াপ্ত করেন। গ্রেপ্তারকৃত দুই যাত্রীকে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত তাদের বিচারিক হেফাজতে পাঠান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন