প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা ও আইনগত জটিলতার কারণে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ১.৮ বিলিয়ন (১৮০ কোটি) ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল পরিকল্পনা থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফেডারেল আদালত এর কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, এই পরিকল্পনা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে, না কি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, তা নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়ে গেছে।
বার্তা সংস্থা সিএনএন সূত্রে প্রকাশ, কংগ্রেসের রিপাবলিকান দলীয় শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে এই তহবিল বাতিলের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন আপাতত প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখছে, পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে না। দেশটির বিচার বিভাগও এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ফেডারেল আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ মেনে চলবে, যা আগামী ১২ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের অধীন। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি এটাই। আদালত যদি অনুমতি না দেয়, তবে কী-ই বা করার আছে?" কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই তহবিলের প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস করেন বলেও তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে প্রশাসন এই নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই মৌখিক আশ্বাস ক্ষুব্ধ রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের শান্ত করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ এই তহবিলকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের মতো তাদের মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন সোমবার প্রশাসনকে এই তহবিল অবিলম্বে ‘নিজেদের উদ্যোগে বন্ধ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট নিশ্চিত করেছেন যে, হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা তাকে তহবিলটি ‘বাদ দেওয়া’ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তবে লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডিসহ অনেক রিপাবলিকান নেতাই এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়।
তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনকে তাদের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে ও চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কেবল আদালতের নির্দেশ মেনে চলার কথা বলে পার পাওয়া যাবে না।
কয়েক বছর আগে ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্ন ফাঁসের ঘটনায় আইআরএসের বিরুদ্ধে একটি নজিরবিহীন মামলার নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে উক্ত তহবিলটি গঠন করা হয়েছিল। ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্পের নিজের দলের নেতারা এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। অনেকের মতে, এটি মূলত ট্রাম্পের মিত্রদের অর্থ পাওয়ার একটি গোপন ‘স্লাশ ফান্ড’ বা কালো তহবিল। প্রথমে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনা পরিবর্তনের বিষয়ে অস্বীকৃতি জানালেও, দলীয় আইনপ্রণেতাদের অনড় অবস্থানের মুখে তারা সুর নরম করতে বাধ্য হন।
প্রসঙ্গত, ভার্জিনিয়ার ফেডারেল আদালত আগামী ১২ জুন পর্যন্ত এই তহবিলের অর্থ বরাদ্দ বা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আগামীর ১২ জুনের শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসন এই তহবিলের পক্ষে লড়াই করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
একই সঙ্গে ফ্লোরিডার আরেকটি আদালতেও এই তহবিল বড় ধাক্কা খেয়েছে। সেখানে এক বিচারক ট্রাম্প এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে বলেছেন, একই সাথে আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য বিচার বিভাগের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আদালতের সঙ্গে কোনো প্রতারণা করেছেন কি না।
ফলে সব মিলিয়ে নিজের দলের প্রবল বিরোধিতা আর আইনি বেড়াজালে ট্রাম্পের এই ১৮০ কোটি ডলারের বিতর্কিত তহবিল এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন