প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীর জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর জেল ও রিমান্ডে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে কারাগারে আলো-বাতাসহীন একটি সেলে রাখা হয়েছিল। সেখানে কারারক্ষী ও কয়েদিরা তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালাগাল করত।
এনসিপির এই নেতা বলেন, কারারক্ষীরা আওয়ামী লীগের সমর্থক দাবি করে। তাদের বেশিরভাগই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাসিন্দা এবং তারা তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালাগাল করত। আশপাশের কয়েদিরাও সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগের আসামি। তারাও তাকে বিভিন্নভাবে অপমান করত।
তানভীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলে এবং রিমান্ডে তাকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, নির্যাতনের কথা বাইরে বললে তার পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলা হবে। তবুও তিনি সত্য তুলে ধরতে এসেছেন এবং বলেন, "আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না, সত্য সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।" তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারের মধ্যে খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের কালো ছায়া আগের মতোই রয়ে গেছে, জেলে গিয়ে তার প্রমাণ তিনি পেয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি এসব জাতির সামনে তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট যেদিন প্রথম জেলে নেওয়া হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে অন্যদের ভালো খাবার দেওয়া হলেও তাকে দুই দিনের পচা খাবার দেওয়া হয়েছিল। কারাগারে এমন পচা খাবার দেওয়া হতো, যা খাওয়ার অযোগ্য ছিল। একপর্যায়ে তার ডায়রিয়া হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে ডাক্তার যে ওষুধ লিখে দিয়েছিলেন, তা তাকে দেওয়া হয়নি। বরং অজানা ওষুধ খেতে হয়েছে। তার শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে এবং তিনি জানেন না এসব ইনজেকশন কিসের। অন্তত ৭০–৮০টি ইনজেকশন তাকে দেওয়া হয়েছে এবং সারাক্ষণ জ্বর থাকত, তবুও তারা তাকে ইনজেকশন দিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন