প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি বৈদেশিক মিশন বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বিভিন্ন দেশে। গতকাল, সোমবার, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে এ খবর জানিয়েছে।
একসঙ্গে একাধিক বিদেশি মিশন বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই বিরল; কারণ এখানে কোনো বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকট নেই।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে কংগ্রেসের কয়েকটি কমিটিতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেনাডার সেন্ট জর্জ, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের ডুয়ালা এবং কানাডার উইনিপেগে অবস্থিত মার্কিন দপ্তরগুলো বন্ধ করা হবে। এই পাঁচটি মিশন বন্ধের পরিকল্পনা আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই এ বিষয়ে জানেন এমন ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের কাছে তথ্য দিয়েছেন।
গত বছরের শুরুতে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় এক ডজন বিদেশি মিশন বন্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। সে সময় রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এটি ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি প্রশাসন পুনর্গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটও প্রায় ৩০টি বিদেশি মিশন বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, কিছু ছোট বিদেশি মিশন খুব বেশি প্রয়োজন নেই এবং সেগুলোর পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি খরচ হয়ে থাকে।
ডেমোক্র্যাট নেতা এবং সাবেক কয়েকজন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমানোর ফলে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি বন্ধ করার ফলে বিশ্বের উপর আমেরিকার প্রভাব দুর্বল হতে পারে। এর ফলে চীন, রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
গত বছর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার করা হয়। এতে বেশ কয়েকটি বিভাগ পুনর্গঠন হয় এবং শত শত কর্মী ছাঁটাই করা হয়। তবে ওই সময়ে কোনো বিদেশি মিশন বন্ধ করা হয়নি।
রবিবার, এ বিষয়ে জানতে চাইলে, পররাষ্ট্র দপ্তর মিশন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে যাতে দক্ষ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে জানানোসহ সমস্ত নিয়ম অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ব্যয় কমানো এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে আরো কার্যকর করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তার মতে, অনেক দিন ধরেই সংস্থাটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় এবং অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে।
বন্ধ হওয়া চারটির মধ্যে গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেসে একটি মার্কিন দূতাবাস রয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার মেদান, কানাডার উইনিপেগ এবং জাপানের নাগোয়ায় কনস্যুলেট আছে। ক্যামেরুনের ডুয়ালায় একটি মার্কিন দূতাবাসের শাখা কার্যালয় রয়েছে। সাধারণত, কনস্যুলেট এবং শাখা কার্যালয় কোনো দেশের রাজধানীর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও নাগরিক সেবা পরিচালনা করে, আর রাজধানীতে থাকে মূল দূতাবাস।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়, যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকটি নতুন কূটনৈতিক মিশন চালু করেছিল। ওই অঞ্চলে চীনের সঙ্গে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার কারণে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ডুয়ালা ও উইনিপেগে চীনের কোনো কার্যকর কূটনৈতিক মিশন নেই। তবে, সেন্ট জর্জেস, নাগোয়া এবং মেদানে চীনের কূটনৈতিক উপস্থিতি রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন