প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "ইরানের নির্দেশনা না মেনে কোনো দেশের পক্ষে এই নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন সম্ভব নয়।"
তিনি বুধবার ঢাকায় ইরান দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, প্রতিদিনই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। তবে ইরানের নির্দেশনা না মানার কারণে কিছু ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, "এই পথ দিয়ে যেতে হলে ইরানের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।"
বাংলাদেশের কোনো জ্বালানিবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি জানান, এ-বিষয়ক তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, "বিষয়টি গোপনীয় হওয়ায় এ নিয়ে তাঁর কিছু বলার নেই।" তবে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দুদেশের সুসম্পর্কের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ যাতে নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারে, সে জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ নিয়ে ইরান, কাতার এবং ওমানের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, "মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের শর্ত জানানো হয়েছে।" এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে ইরানে হামলা না করার নিশ্চয়তা।
সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের ইরান সমর্থন করবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে জলিল রহিমি বলেন, "রোহিঙ্গা মুসলমানরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের সমর্থন দেবে তেহরান।"
সংবাদ সম্মেলনে সুন্নি মুসলমানদের প্রতি ইরানের সমর্থনের কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরার পর রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "দুপক্ষের সদিচ্ছা থাকলেই আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব।" তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছিল এবং একটি বড় চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল দুটি দেশ। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছিল। হামলার আগের রাতেও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। রাষ্ট্রদূতের ধারণা, দুদেশের মধ্যে তৃতীয় দফা যুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং এ জন্য ইরান প্রস্তুত। তিনি জানান, তেহরান বন্ধু রাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রদূত বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র অতীতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ভবিষ্যতেও এমন হামলা চালাতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "ইরানে পারমাণবিক হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমানুপাতিক জবাব দেওয়া হবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে কিনা– জানতে চাইলে জলিল রহিমি বলেন, "তেহরান এমন কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন