প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত শৈশব, নৈতিক, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার।
আগামীকাল মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে। আজ সোমবার এ উপলক্ষ্যে প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষ্যে আগামী ৬ থেকে ৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণভাবে শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে শিশুদের সার্বিক বিকাশ অপরিহার্য। তবে শিশুশ্রম, সামাজিক সহিংসতা, বাল্যবিয়ে ও বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। এসব সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি শিশু একেকটি ফুল এবং আগামী দিনের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। আজকের ছোট্ট শিশুর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের পথপ্রদর্শক, অভিভাবক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী কিংবা দেশের চালিকাশক্তি। তাই শিশুদের সঠিক যত্ন, স্নেহ ও শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা সকলের পবিত্র দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নিষ্পাপ শিশুদের হাসিমাখা মুখই নতুন বাংলাদেশের আশা ও অসীম সম্ভাবনার প্রতীক। প্রতিটি শিশুর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে প্রস্ফুটিত করার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব।
শিশুদের কল্যাণ এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ১৯৭৮ সাল থেকে ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার’ প্রতিযোগিতা প্রবর্তন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আইপিইসি (আইপিইসি) প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষায় তাঁর (বেগম খালেদা জিয়া) ভূমিকা অনন্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া, শিল্প-সাহিত্যসহ নানা ক্ষেত্রে আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় আসীন করবে।
তিনি বলেন, শিশু অধিকার দিবস উদযাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির গৌরবময় সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের প্রধান বাতিঘর শিশু একাডেমির অর্ধশতকের এই আনন্দঘন অভিযাত্রা লাখো শিশুর কণ্ঠে সুরের ঝরনা, তুলির আঁচড়ে রঙের মেলা এবং চোখে রঙিন ভবিষ্যতের দীপ্ত স্বপ্নের প্রতীক।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী নতুন স্বপ্নে জাগ্রত হওয়ার এবং নতুন মানবিক অভিযাত্রার পথপ্রদর্শক হবে। শিশুর নির্মল হাসিতে, সুপ্ত স্বপ্নে ও সাফল্যে গড়ে উঠবে আগামী দিনের এক নিরাপদ, সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ।
তিনি শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সকল শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশুকল্যাণে নিয়োজিত সকল ব্যক্তি ও সংস্থাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন