প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে উপকূলের জনজীবন, কৃষি ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদি উচ্চমাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ২১০০ সাল নাগাদ প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ পরিবেশগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্টে’ বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উচ্চমাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষের জন্য বাড়বে। এতে বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দেশের জিডিপির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে ভূমি দেবে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় বদ্বীপ ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বদ্বীপের কিছু অংশ বছরে ৪ থেকে ৫৫ মিলিমিটার পর্যন্ত দেবে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন-জীবিকাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু বসতভিটা ও কৃষিজমিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং উপকূলীয় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ছে। নিরাপদ পানি, জীবিকা ও বসবাসের অনিশ্চয়তায় উপকূলের একাংশের মানুষ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়ছে, স্থানীয় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার মন্তব্য করেন, অধিক লবণাক্ততা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা উপকূল ছেড়ে ঢাকা কিংবা অন্যান্য শহরাঞ্চলে চলে যাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ এই অভিবাসনের ফলে যেসব এলাকায় তারা আশ্রয় নিচ্ছেন, সেখানে নতুন করে পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় প্রয়োজন যথেষ্ট অর্থায়ন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনে কার্যকর পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এ জন্য জলবায়ু সহনশীল উপাদান ও বীজ ব্যবহার করতে হবে এবং উপকূলীয় এলাকার অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় কোথায় এবং কীভাবে আশ্রয় নেয়া যাবে, সে বিষয়ে প্রস্তুতি থাকতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিজেদের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর শুধু পরিবেশগত সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি দারিদ্র্য, বৈষম্য ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। ফলে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর অভিযোজন উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন