প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি বলেছেন, আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী। দেশের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ লাখ নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তাদের সহায়তা প্রদান এবং জনসম্পদে পরিণত করার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
শনিবার দুপুরে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মিলনায়তনে রংপুর বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা দিতে ৪৫টি মোবাইল থেরাপি ইউনিট মাঠপর্যায়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে মোট প্রায় ২ হাজার ৬০০টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে ৮৫টি নিবন্ধিত এবং ৭৫টি এমপিওভুক্ত। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে ১,৭০০টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
ডা. জাহিদ হোসেন আরও জানান, সমাজের মূলধারায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তর, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা সংস্থা এবং প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দুর্নীতির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়ালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিগত সময়ের দুর্নীতির অভিযোগগুলোও দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত করছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে তবে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারীরাই এ সুবিধা পাবেন। এজন্য প্রথমে জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে কম্পিউটারভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রংপুর নগরীসহ সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব ধরনের ভাতা ও আর্থিক সহায়তা বর্তমানে সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের অর্থও একই পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমে গেছে এবং উপকারভোগীরা স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা পাচ্ছেন।
সমাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সেলাই, কম্পিউটার, হাঁস-মুরগি পালন, প্লাম্বিং, মোবাইল ফোন মেরামতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বিনাসুদে ঋণও দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসাসহ অন্যান্যরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন