প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ উদযাপিত হচ্ছে। তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করতে শুরু করেন।
জীবদ্দশায়, বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা উৎসবের আবহ তৈরি হতো প্রতিবার। বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা, আলোচনা, দোয়া, সহ নানা কর্মসূচীতে সক্রিয় থাকতেন। কিন্তু এবারের দিনটির বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ, বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই; তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রয়ে গেছে।
বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, তারেক রহমান। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের মহাখালী কড়াইল এলাকায় টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া, মোনাজাত ও দরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রিয় দেশনেত্রীর ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি।
যেমনটি জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট ২০২৬, শনিবার ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। এই উপলক্ষে স্মরণে ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে।
ঢাকায় নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ সকাল ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সব নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
গৃহবধূ থেকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আসা, পরে তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন—বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল উত্থান-পতন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সমৃদ্ধ। স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত মা, মাটি ও মানুষের রাজনৈতিক দল হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সুদৃঢ় সংগঠনের কাঠামো এবং জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছিল। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন এবং সংকটের মুখোমুখি এসে বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ় নেতৃত্ব স্থাপন করে ফিনিক্স পাখির মতো দলের গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা বারবার প্রমাণ করেছেন।
বিএনপির নেতাদের পরামর্শ ও অনুরোধে, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালে বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ১৯৮৩ সালে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের পর অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি তিনি দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হন। ১৯৮২ সালে এরশাদের সরকারের ক্ষমতা দখলের পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বের কারণে ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।
এরপর, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের এই সময়কালটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। ২০০১ থেকে ২০০৬—এই মেয়াদে দ্বিতীয়বারের মতো পূর্ণ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্যও সরকার পরিচালিত করেছিলেন।
‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খালেদা জিয়া রাজনৈতিক পরিচয়ে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ছিল রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
অন্যদিকে, তাঁর রাজনৈতিক পথ কখনো সহজ ছিল না। ক্ষমতায় থাকা, বিরোধী দলে থাকা, আন্দোলন, রাজনৈতিক সংঘাত, কারাবাস এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই—এই সব মিলিয়ে তাঁর জীবনের অন্তত শেষ কয়েক দশক কেটেছে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে।
বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর তাঁর কারাবাস এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন নানা শারীরিক জটিলতার মধ্যে ভুগলেও বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল অটুট।
শেষ সময়ে রাজনীতির বাইরেও তিনি কেন্দ্রে ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকলেও বিএনপির সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের মনোজগতে তাঁর অবস্থান ছিল অটুট। দলের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাঁর মতামত, রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর উত্তরাধিকার আলোচনা হয়ে আসতে থাকে।
দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি শুধুমাত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; বরং বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান প্রতীক। নেতাকর্মীরা তাঁকে মায়ের আসনে সবসময় সম্মান করেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন এবং দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে, যা মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জানাজায় পরিণত হয়েছিল। শোক, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদায় জানিয়েছে দেশের মানুষ।
গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সংগ্রামের পাশাপাশি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, বরং নিজ কর্মগুণে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি হয়ে উঠেছেন একটি জীবন্ত ইতিহাস।
বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্বের পর দলের হাল ধরেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র, তারেক রহমান। তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই, নির্যাতন এবং দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন তারেক রহমান। নির্বাসিত জীবন কাটিয়েও তিনি দলকে সুসংগঠিত রেখে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক দীর্ঘ লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২০ বছর পর আবারও জনগণের বিপুল সমর্থন ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগান ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আজ ১৫ আগস্ট, ওইদিনের অনুপস্থিতিতে প্রথম জন্মদিন শোক, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং দোয়ায় তাঁকে স্মরণ করবে বিএনপির অগণিত নেতাকর্মীসহ দেশের মানুষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন