প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ারের খেতাব হারিয়েছেন। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, শেয়ারবাজারে স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারগুলোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই পতন ঘটে।
সম্প্রতি তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হন, কিন্তু গত মঙ্গলবার এই খেতাবটি হারান।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯৫৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭২৭ বিলিয়ন পাউণ্ড)। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে তার সম্পদের মূল্য ছিল ১.১১ ট্রিলিয়ন ডলার।
যদিও এই পতনের কারণে মাস্ক এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি আছেন। তার সম্পদের পরিমাণ নিকটতম প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক বেশি।
গত ১২ জুন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বহুল প্রতীক্ষিত শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েন মাস্ক। নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির প্রাথমিক শেয়ার বিক্রয় (আইপিও) প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে নির্ধারণ করা হয় এবং লেনদেন শুরু হয় ১৫০ ডলার দামে।
এই আইপিওর ফলে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আপাতত, মাস্কের স্পেসএক্সের প্রায় ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা থাকার কারণে তার সম্পদ এক লাফে এক ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।
এরপর গত ১৬ জুন বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম বেড়ে ২২৫.৬৪ ডলারে পৌঁছায়। এতে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১.৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু সেই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি, এআই অবকাঠামো নির্মাণের বিপুল খরচ এবং উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের দরপতন দেখা দেয়। এতে এনভিডিয়া, ইন্টেল ও এএমডির মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলিও চাপে পড়ে।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় স্পেসএক্স। জুনের মাঝামাঝি সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়ে প্রায় ১৫৬ ডলারে নেমে আসে।
শুধু ২২ জুনের একদিনেই স্পেসএক্সের শেয়ার ১৬ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে আনুমানিক ২৪০ বিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে যায়।
একই সময়ে, তার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারও প্রায় ৬ শতাংশ কমে যায়। টেসলার প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিক হওয়ায় মাস্কের জন্য এটি আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা অন্য ধনকুবেরদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তার সম্পদের বড় অংশই মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। তার মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশই স্পেসএক্সে বিনিয়োগকৃত। আর বাকি বড় অংশ টেসলায় বিনিয়োগ রয়েছে।
তবে যদি স্পেসএক্সের শেয়ারদরের মাত্র ৬ শতাংশও পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়, তাহলে মাস্কের সম্পদ আবার এক ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। সে ক্ষেত্রে তিনি আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন