প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় বিজিবি সদস্যদের একটি বিশেষ অভিযানে ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৮শ’ টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর ৪২ বডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেন।
বিজিবি সূত্র জানাচ্ছে, ১৩ আগস্ট দুপুর দেড়টা নাগাদ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবি, দিনাজপুর র্যাব-১৩ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ অভিযানিক দল জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৪ জনকে আটক করা হয়।
আবিদানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৩টি কাচের জারে আনুমানিক ৫ কেজি ৭শ’ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও একটি প্রাইভেটকার, দু’টি মোটরসাইকেল, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ৬টি সিমকার্ডও জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার দামুর গ্রামের মো. মোখলেছুর রহমানের পুত্র মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), দিনাজপুর শহরের ছোট গুড়গোলা মহল্লার শহিদুল ইসলামের পুত্র মো. সালাউদ্দিন সান্জু (৪১), ফুলবাড়ী উপজেলার খেতদিঘী গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র মো. আনিছুর রহমান (৫৫) এবং বিরামপুর উপজেলার কুন্দনহাট গ্রামের মোবারক আলীর পুত্র মো. উজ্জল আলী (৫৪)।
বিজিবি’র সূত্র জানাচ্ছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তারা পূর্বে বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশে সাপের বিষ পাচার করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে। উদ্ধার সাপের বিষই বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল বলেও বিজিবি’র সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিজিবি জানাচ্ছে, উদ্ধার সাপের বিষ, যানবাহন এবং অন্যান্য মালামালের মোট সিজার মূল্য ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৮শ’ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আটকদের গত ১৩ আগস্ট উদ্ধার করা মালামালসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরে আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে উদ্ধার করা নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় নমুনাটি সাপের বিষ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য শুক্রবার রাতে হাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ বিজিবিসহ যৌথ বাহিনী অভিযান টিমকে পত্রের মাধ্যমে অবগত করেছে। ফলে উদ্ধার আলামত সাপের বিষ এবং মূল্যবান সম্পদ বিদেশে পাচারে প্রস্তুতির বিষয় নিশ্চিত হয়েছে। এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের গতকাল শুক্রবার রাতে অবহিত করা হয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বাসস’কে জানান, অতি মূল্যবান সম্পদ ও বন্যপ্রাণীজাত পণ্যসহ যে কোন অবৈধ দ্রব্যের পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রয়েছে।
জেলার চিরিরবন্দর থানার ওসি পরিদর্শক মো. মাহামুদুন নবী জানান, আজ শুক্রবার রাতে দিনাজপুর হাবিপ্রবি থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানের উদ্ধার আলামত পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত রিপোর্টে উদ্ধার আলামত সাপের বিষ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, শুক্রবার রাতে বিজিবি’র পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার ৪ জন এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চিরিরবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ শনিবার গ্রেপ্তার ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। বিচারক আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করলে জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের গডফাদারদের গ্রেপ্তারসহ আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন