প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতা টিপু হাওলাদার এবং জাসাস নেতা কবির মোল্লাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
সুমা আক্তার আদালতে বলেন, ঘটনার পূর্বে তার স্বামী ‘ক্রসফায়ারের’ আশঙ্কায় ছিলেন। এ কারণে তিনি তাকে সাময়িকভাবে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যেতে বলেছিলেন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দি দেন সুমা আক্তার।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, তার স্বামী টিপু হাওলাদার তাকে জানিয়েছিলেন যে, এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ একটি সভায় তাকে দেখা করতে বলেছেন। এ নিয়ে তিনি মানসিক চাপ অনুভব করছিলেন। একপর্যায়ে টিপু তাকে বলেন, ‘বরিশালে দুই-তিনটা ক্রসফায়ার হয়ে গেছে, আমার কিছু হয়ে গেলে তোমার আর সন্তানদের কী হবে?’
সুমা বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি স্বামীকে ঢাকায় গিয়ে চাকরির চেষ্টা করার পরামর্শ দেন। এরপর ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি টিপু ঢাকায় যান। কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ডিবি পুলিশ এসে টিপুকে তুলে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আগৈলঝাড়া থানায় গেলেও পুলিশ প্রথমে টিপুর গ্রেফতারের বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানায়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে সহযোগিতা চাইলেও তারা কোনো সহায়তা করতে পারেননি। তাদের পরামর্শে তিনি শাশুড়ি ও ভাসুরকে নিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বরিশালের বাসভবনে যান। তবে দারোয়ান তাকে ভেতরে ঢুকতে দেননি।
সুমা আক্তার জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি দেখতে পান, টিপু হাওলাদার ও জাসাস নেতা কবির মোল্লা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এরপর স্বজনদের নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। পোস্টমর্টেম শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করতে বলা হয়।
তিনি দাবি করেন, থানার লোকজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত দাফনের জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছিল।
সাক্ষ্যে সুমা আক্তার জানান, ঘটনার কিছুদিন পর তিনি লোকমুখে জানতে পারেন, স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসানউল্লাহর নির্দেশে উজিরপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ, উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন। মাহাবুল ও জসিম বর্তমানে গ্রেফতার আছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস এলাকার বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন