প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যখন কোনো ব্যক্তি চরম হঠকারিতা, অহংকার এবং বারবার সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তখন তার হৃদয়ে এমন এক অবস্থা তৈরি হয় যেখানে কোনো ভালো কথা, উপদেশ বা হেদায়েত আর কাজ করে না। কোরআনের ভাষায় বলা হয়েছে, ‘এদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে।’ কোনো পাত্রের মুখ বন্ধ করে সিল বা মোহর মেরে দিলে যেমন তাতে আর নতুন কিছু ঢোকানো যায় না, তেমনি অন্তরে মোহর পড়ার পর সেখানে আর কোনো ঈমান, অনুশোচনা বা সত্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না। ব্যক্তি তখন ভালো ও মন্দের পার্থক্য করার অনুভূতি হারিয়ে ফেলে।
পবিত্র কোরআনের আয়াতের আলোকে যেসব কাজ ও বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষের অন্তরে মোহর পড়ে, সেগুলো জানা ঈমান রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনে এমন ৯ শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে অন্তরে মোহর পড়ার বিষয়টি সম্পর্কিত।
১. কুফর বা অবিশ্বাস : আল্লাহ তাআলা বলেন, এসব জনপদের কিছু সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই তাদের কাছে তাদের রাসুলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তারা আগে থেকেই যা অস্বীকার করেছিল, তার প্রতি ঈমান আনতে প্রস্তুত ছিল না। এভাবেই আল্লাহ কাফিরদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত : ১০১)
২. মুনাফিকি বা কপটতা : মুনাফিকদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা পেছনে থেকে যাওয়া লোকদের সঙ্গে থাকতে সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে; ফলে তারা বুঝতে পারে না।’ (সুরা আত-তাওবা, আয়াত : ৮৭)
৩. পাপাচারে ডুবে থাকা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা পৃথিবীর পূর্ববর্তী অধিবাসীদের পর তাদের উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কি এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি যে আমি ইচ্ছা করলে তাদের পাপের কারণে তাদেরও বিপদে আক্রান্ত করতে পারি এবং তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিতে পারি? ফলে তারা শুনতে পায় না।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত : ১০০)
৪. অজ্ঞতা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এভাবেই আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেন, যারা জানে না।’ (সুরা আর-রুম, আয়াত : ৫৯)
অজ্ঞতা দুই ধরনের হতে পারে—সত্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা। সত্য জানার পরও সে অনুযায়ী আমল না করা।
৫. আখিরাতের তুলনায় দুনিয়াকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এ কারণে যে তারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে বেশি পছন্দ করেছে। আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না। তারাই সেই লোক, যাদের অন্তর, কান ও চোখের ওপর আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন; আর তারাই উদাসীন।’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ১০৭-১০৮)
৬. প্রবৃত্তির অনুসরণ করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারাই হলো সেসব লোক, যাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং যারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে।’ (সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৬)
অর্থাৎ যারা সত্যকে গ্রহণ করার পরিবর্তে নিজেদের কুপ্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশির অনুসরণ করে, তাদের অন্তর সত্য উপলব্ধি করা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
৭. অহংকার ও ঔদ্ধত্য : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা নিজেদের কাছে আগত কোনো দলিল-প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর আয়াতসমূহ সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের এ কাজ আল্লাহর কাছে এবং মুমিনদের কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও উদ্ধত ব্যক্তির অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (সুরা গাফির, আয়াত : ৩৫)
অহংকারের একটি বড় লক্ষণ হলো সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও অহংকারবশত তা প্রত্যাখ্যান করা এবং অন্যদের তুচ্ছজ্ঞান করা।
৮. আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের শিক্ষাকে অস্বীকার করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর তাদের পরে আমি বহু রাসুলকে তাঁদের জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম। তাঁরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তারা আগে থেকেই যা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাতে বিশ্বাস করার ছিল না। এভাবেই আমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তরে মোহর মেরে দিই।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৭৪)
৯. ঈমান আনার পর কুফরি করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এ কারণে যে তারা ঈমান এনেছিল, তারপর কুফরি করেছিল। ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে; তাই তারা বুঝতে পারে না।’ (সুরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত : ৩)
অর্থাৎ ঈমান গ্রহণের পর তা প্রত্যাখ্যান করার কারণে তাদের অন্তরে মোহর পড়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন