প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংসদ ভবন, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে একটি ত্রুটিমুক্ত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে, যা ডোর-টু-ডোর পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আজ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
রফিকুল ইসলাম হেলালী মন্তব্য করেন, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত দুস্থ ও নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ বিভিন্ন জটিলতার কারণে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান। কিছু জায়গায় উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগও রয়েছে। তিনি জানতে চান, প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর জন্য শক্তিশালী ও ত্রুটিমুক্ত ডিজিটাল ডাটাবেজ এবং কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর জন্য কি কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা ডোর-টু-ডোর অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে যখন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ একযোগে শুরু হবে, তখন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে যে ত্রুটির বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো অনেকাংশে কমে আসবে এবং এ নিয়ে সন্দেহও দূর হবে।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময়ে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ পদ্ধতিতে দেওয়া হতো। নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হতো, যার ফলে বয়সসীমা পূরণ করলেও সবাই ভাতা পেতেন না। বর্তমানে এসব কর্মসূচি ইউনিভার্সাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফলে, পর্যায়ক্রমে ত্রুটির সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, গাজীপুর-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সালাহ উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তদের নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
তবে মাদকাসক্তদের নিরাময়ের পর পুনর্বাসনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বেকার যুবক ও নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৪টি ট্রেড চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তরা চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠলে, তাদেরও এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন