প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার দাবি করেছেন যে, গত এক মাসে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে, এ কথা বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার (৭ জুন) কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় না পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ আমরা শুরু করেছি।’ গত মাসে রাজ্যের সমস্ত জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানিয়েছেন, ‘এসব কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে ওই হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে আরও ৮৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক আছেন এবং তাদেরও শিগগিরই ফেরত পাঠানো হবে।
এএফপি জানিয়েছে, ভারতের এক অন্যতম রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। দলটি নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসীদের ‘ শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং ফেরত পাঠানোর’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
বাংলাদেশের সাথে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে অভিবাসন ইতিহাসগতভাবে চলমান। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বর্তমানে কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশি নাগরিক এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আটককেন্দ্র স্থাপন করেছে।
এAAফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অভিবাসন ইস্যু অনেকদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অতীতে অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে উল্লেখ করেছেন।
সমালোচকদের অভিযোগ, বিজেপির বক্তব্য ও নীতিমালায় ভারতের ২০ কোটির বেশি মুসলমানের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রান্তিকতার অনুভূতি বাড়াচ্ছে। তাদের মতে, দলটি ধর্মীয় পরিচয়কে অবৈধ অভিবাসনের সাথে একত্রে দেখে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ রয়েছে যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারত শত শত বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ মিত্র শেখ হাসিনা পরে ভারতে আশ্রয় নেন।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে ধীরে ধীরে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সোমবার (৮ জুন) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন