প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব রাস্তি গ্রামের মতিন মোল্লার ছেলে হেমায়েত মোল্লা (২৮) ইতালিতে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। অকুণ্ঠভাবে সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবারের শেষ সম্বল জমিজমা বিক্রি, ধার-দেনা ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করা হয়। এর মাধ্যমে দালাল চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২২ লাখ ৭৩ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু দালালদের কারণে ইতালির বদলে তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান হেমায়েত। তার জীবিত থাকা অথবা মারা যাওয়ার বিষয়ে পরিবার এখনও নিশ্চিত নয়।
এই ঘটনার পর তার ভাই বেলায়েত মোল্লা ১৬ মার্চ মাদারীপুর মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচারকারী দালাল চক্রের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তবে, মামলা দায়েরের তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। মামলার বাদী ও পরিবারের সদস্যরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মামলার আসামিরা হেমায়েতের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগকারী সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ গ্রামের হেদায়েত লস্কর, আলো বেগম, মোতালেব লস্কর এবং ঝিকরহাটি গ্রামের আজাদ দর্জি ও পলি আক্তার।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকা হেমায়েতকে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ধাপে ধাপে ২২ লাখ ৭৩ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু ইতালির প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার পর থেকেই হেমায়েতের সঙ্গে পরিবারের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের শেষের দিকে লিবিয়ায় অবস্থানরত কয়েকজনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, নির্মম নির্যাতনের পর হেমায়েত জীবিত নেই। তবে, এ বিষয়ে কোনো সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকায় পরিবারের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
হেমায়েতের ভাই ও মামলার বাদী বেলায়েত মোল্লা জানিয়েছেন, ‘আমার ভাইকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে ২২ লাখেরও বেশি টাকা নিয়েছে। পরে জানতে পারি, সে আর বেঁচে নেই। কিন্তু আজও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম সুজন বলেছেন, "দালাল চক্র গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।"
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মন্তব্য করেন, "মাদারীপুর মানবপাচারপ্রবণ জেলা। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অপরাধ রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তবে মামলার বাদীপক্ষের দাবি, মামলা হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় তারা বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার এবং নিখোঁজ হেমায়েতের প্রকৃত পরিণতি উদঘাটনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন