প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বর্ণাঢ্য পরিপাটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো গোছানো আয়োজন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, সেখানে কোথাও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি দেখা যায়নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেরই এ বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সোলায়মান নিলয় মন্তব্য করেছেন, ‘এটা খুবই দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ার মতো ঘটনা। আজকের অনুষ্ঠানে ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুইদিন আগে পত্রিকায় একটি নিউজ দেখেছিলাম যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি অনুষ্ঠানে তার ছবি যেন ব্যবহার না করা হয়। তার এই নির্দেশনার প্রতিফলন আজকের অনুষ্ঠানে আমি দেখছি। আগে দেখা যেত, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় ছবি থাকতো, কিন্তু আজকে তা নেই। সত্যি এটি অসাধারণ ব্যাপার।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা গত ৫ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র জারি করে। ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি করা সমস্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে (থ্রি ডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের সময় বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে বৃহৎ সম্মেলন কেন্দ্রের মূল মঞ্চে এবং চার পাশে দেয়ালে টানানো হয়েছিল পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ২০টি ব্যানার-ফেস্টুন।
এই ব্যানার-ফেস্টুনে পরিবেশ রক্ষা, প্রাণীকূল, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গাছ রোপণ ও গাছের পরিচর্যা বিষয়ক পরামর্শ ও নির্দেশনা বিষয়ক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের যে কথা বলেছেন, তা এই ধরনের ঘটনা তারই উন্মোচন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরোজা রোজা মন্তব্য করেছেন, ‘অতীতে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী তার ছবির প্রচারের প্রবণতা। ফলে, মূল অনুষ্ঠানের বিষয় বোঝা যেত না এবং অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য আড়াল হয়ে যেত।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সংস্কৃতি থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নির্দেশ সবার মনের কথার প্রতিফলন। এর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন