প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুষ্টিয়া ও পাবনা সীমান্তের সংলগ্ন পদ্মা নদীতে বালুচরের দখল এবং আধিপত্য বিস্তারের কারণে দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা ধরে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে এই সংঘর্ষ চলেছে। দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত দেড় শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ এখনও কোনো হতাহতের নিশ্চিত তথ্য জানাতে সক্ষম হয়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত পদ্মা নদীর ডিগ্রির চর এলাকার কলাবাগান কালু বাহিনীর দখলে ছিল। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়া অংশের পদ্মা-গড়াই মোহনা থেকে কাকন বাহিনীর সদস্যরা একটি ট্রলারে করে এসে ডিগ্রির চর লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। চরের দখল নিতে মরিয়া কাকন বাহিনীর হামলার প্রতিক্রিয়ায় কালু বাহিনীর সদস্যরাও প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শুরু হয়। স্থানীয় নৌকার মাঝিরা জানান, বিকেল ৪টার দিকে কাকন বাহিনীর বহরে অস্ত্র ও লোকজনসহ আরও দুটি ট্রলার যোগ হলে গোলাগুলির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। সংঘর্ষ চলাকালে চরের মাঠে ৩০ থেকে ৩৫ জন কৃষক কাজ করছিলেন। গুলির শব্দে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মহানগর ট্যাগ এলাকাসহ আশপাশের জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আকস্মিক এই গোলাগুলির সময় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় সদর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি অভিযান চলছিল। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার জানান, নৌকায় ওঠার পরপরই তাঁরা একাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়ে নিরাপত্তাসহ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নদীতে তিন থেকে চারটি স্পিডবোটকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। এদিকে, বুধবার সকাল থেকে এই গোলাগুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হন। ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলির শব্দ বন্ধ হওয়ার পর সেখানে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে গোলাগুলির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম এবং পুলিশের জনবলও বেশ সীমিত। লক্ষ্মীকুণ্ডা পুলিশ ফাঁড়ির মাত্র ১১ জন সদস্যের মধ্যে চারজন মৎস্য অভিযানে নিয়োজিত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং চরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে প্রতিহত করতে খুব শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সমন্বয়ে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন