প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আইন দাবি করেছে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত এলাকা দখল করার পর সেখানে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইরানি বিশেষজ্ঞরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হুথিরা পশ্চিম উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ইরান ওই অঞ্চলকে নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাবের অংশ হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর, হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে মোকা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা দখল করে। এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
আল-আইনের দাবি অনুযায়ী, ইরান পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত উঁচু এলাকাগুলোতে রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। এ ছাড়া, সোমালিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম পাচারের জন্য উপকূলীয় এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে কী ধরনের রাডার স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি।
নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার উপকূল থেকে আসা ইরানি সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাচ্ছে। হোদেইদাভিত্তিক রেড সি ফিশারিজ অথরিটির প্রধান হাসান আল-আত্তাস এসব চালান তদারক করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
আল-আইনের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আল-আত্তাসের নেতৃত্বে একটি চোরাচালান নেটওয়ার্ক কাজ করছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইরান থেকে হোদেইদায় সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে হুথিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে, হুথিরা পশ্চিম উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সরকারি বাহিনী যাতে দখল করা এলাকা পুনরুদ্ধার করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে পাহাড়ি এলাকায় পরিখা খননের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আল-আইনের দাবি, পশ্চিম উপকূলের উঁচু এলাকাগুলোতে নতুন সামরিক স্থাপনা ও রাডার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। লোহিত সাগরের হানিশ দ্বীপপুঞ্জের কাছে জুকার দ্বীপেও তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইরানি বিশেষজ্ঞরা বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন। তারা হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রকৌশলীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আল-আইনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তৎপরতার মাধ্যমে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলকে ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাববলয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করতে চাইছে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর নতুন করে হুমকি তৈরি হতে পারে।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত রাডার স্থাপন ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রদান করা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন