প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবস্থ কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের নির্দেশ, গণমাধ্যম থাকবে স্বাধীন, চলবে নিজ গতিতে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে গণমাধ্যম তাদের নিজের ইচ্ছেমতো লিখবেন।
তবে, তিনি আহ্বান জানান যে, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যেন আপনারা পরিবেশন করেন। নইলে, আপনাদের ওপর মানুষের আস্থার ঘাটতি হতে পারে, এ বিষয়ে আমাদের ওপরও আস্থার ঘাটতি সৃষ্টি হতে পারে- বলেন তিনি।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবস্থ কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে সিএমইউজে’র সভাপতি মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় অপতথ্য ও ভুল তথ্য নিয়ে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে অপতথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এআই’র ভালো দিক, খারাপ দিক দুটোই রয়েছে। এআই দ্বারা বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তৈরি করে যে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, এটির মাধ্যমে মানুষের চরিত্রহনন করা হচ্ছে। এটি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে কথা বলেছি। রাষ্ট্রদূতগণের মতে, সারা বিশ্বের নেতৃবৃন্দকে বলেছে, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর যারা প্রচার করেন, তাদের এআই’র সুফল-কুফল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পিআইবি থেকে আমরা বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলায় আমরা সাংবাদিকদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এই বছর যদি শেষ না হয়, তবে আগামী বছর বাকিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে আমরা কাজ করব। তবে অতীতে যেসব আবাসন বিএনপি সরকারের দ্বারা প্রদান করা হয়েছিল, সেগুলো ধরে রাখা হয়েছে কিনা, সেটি আমাদের চিন্তা করতে হবে। সম্পাদক পরিষদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন, যেগুলো পূর্ববর্তী সরকার প্রদান করেনি। সেই দাবির প্রতি সম্মান রেখে আমি তাদের বকেয়া পরিশোধে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেই সঙ্গে আমি তাদের কাছে একটি দাবি জানিয়েছি যেন আমাদের সাংবাদিক ভাইদের কোনো বেতন বকেয়া না থাকে। তারা যেন প্রতিমাসে সঠিক সময়ে বেতনটি পান। কারণ, অনেকেই আমার কাছে এসে তাদের বেতন বকেয়া নিয়ে অভিযোগ করছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সমুন্নত রাখার জন্য সাংবাদিকরা যে ভূমিকা রাখছেন, সেটি কিন্তু আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংবাদিকরা দেশের জনগণের কাছে ও বিশ্ব দরবারে যেভাবে সংবাদগুলো তুলে ধরেন, সেটি ছাড়া আমার মনে হয় না যে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পেরেছে, কিংবা কোনো আন্দোলন সফল হতে পেরেছে।
বর্তমান সরকারের আমলে গণমাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রচার নিষিদ্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল না, তবে বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থাও আমি না-ই বললাম। ১৭ বছর যাবৎ তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যে দুরবস্থা তৈরি করা হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও কষ্টের বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকার বিভিন্ন পর্যায়ের যৌক্তিক সমালোচনাকে গ্রহণ করছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেইসাথে যৌক্তিক সমালোচনাও প্রয়োজন। কারণ, তাহলেই আমরা আমাদের ভুলগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার সুযোগ পাব।
সমাজে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে অপরাধী ছাড়া সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এলাকার সমস্যাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে এবং সেগুলোর সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএমইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার জানে আলম সেলিম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সাংবাদিক মুস্তফা নঈম, আমিনুল ইসলাম, মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, সোহাগ কুমার বিশ্বাস, ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু নাছের, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারেক আহমেদ প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন