প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে বিরল ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ঘটনায় দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মশাবাহিত এই গুরুতর রোগে বিমানবন্দরের মোট ছয় কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, আক্রান্তদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানো মশাগুলো কোনো একটি বিমানের মাধ্যমে জার্মানির সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরে এসে থাকতে পারে। জুলাইয়ে প্রথম এই সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রাপোর্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংক্রমণের কারণে একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পরে বুধবার ফ্রাঙ্কফুর্টের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে মোট দু’জন মারা গেছেন।
ঘটনার পর বিমানবন্দরজুড়ে মশা ধরার জন্য বিশেষ ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। এসব ফাঁদে ধরা পড়া মশাগুলো পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে তাদের প্রজাতি ও কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ফ্রাপোর্টের মুখপাত্র বলেন, বিমানবন্দরের সব কর্মীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। কারও মধ্যে ম্যালেরিয়ার কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্যও কর্মীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ছয় কর্মীর শরীরে সংক্রমণ
ফ্রাঙ্কফুর্টের জনস্বাস্থ্য বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় ও ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত ছয়জন পুরুষ কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ এখন রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে জানার চেষ্টা করছে, আক্রান্ত ব্যক্তিরা একই মশার কামড়ে সংক্রমিত হয়েছেন, নাকি একাধিক মশা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
বুধবার পরে ফ্রাঙ্কফুর্টের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে পাঠানো এক চিঠিতে দুই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে নগরীর সাধারণ মানুষের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে বলা হয়, ম্যালেরিয়া সাধারণভাবে একজন মানুষ থেকে আরেকজনের শরীরে সরাসরি ছড়ায় না; মশার কামড়ের মাধ্যমেই রোগটি সংক্রমিত হয়।
আক্রান্তদের সংক্রমণের উৎস নির্ধারণে পরীক্ষাগারের ফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিভাগ।
বিমানে মশা আসার আশঙ্কা
জুলাইয়ে প্রথম এই সংক্রমণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সে সময় চারজন বিমানবন্দর কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
জার্মানির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক ফেডারেল সংস্থা রবার্ট কোখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) জানিয়েছিল, আক্রান্ত চার কর্মী ৪ থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের সংক্রমণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিমানের মাধ্যমে মশা জার্মানিতে আসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।
আরকেআইয়ের তথ্যানুযায়ী, জার্মানিতে ম্যালেরিয়ার অধিকাংশ ঘটনা দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মধ্যে দেখা যায়। সাধারণত তারা ম্যালেরিয়াপ্রবণ দেশ থেকে সংক্রমিত হয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু জার্মানির কোনও বিমানবন্দরের ভেতরেই মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া সংক্রমিত হওয়া অত্যন্ত বিরল।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলে শুরুতে চিকিৎসকেরা ম্যালেরিয়া শনাক্ত করতে দেরি করতে পারেন। আর রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আরকেআই জানিয়েছে, জার্মানিতে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সর্বশেষ ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালে, সেটিও ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরেই।
কীভাবে ছড়ায় ম্যালেরিয়া?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যানুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্রবেশ করে। পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট এই রোগ প্রধানত বিশ্বের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
ম্যালেরিয়া প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য রোগ হলেও এর উপসর্গ কখনও হালকা, আবার কখনও প্রাণঘাতী হতে পারে। জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগটি জীবনহানির কারণও হতে পারে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের ঝুঁকি খুব কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সংক্রমণের উৎস ও মশার প্রজাতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে নজরদারি ও নমুনা পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।
কর্তৃপক্ষ এখন মূলত দুটি বিষয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে—আক্রান্ত কর্মীদের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু কীভাবে পৌঁছাল এবং কোনও নির্দিষ্ট মশা বা মশার একটি দল বিমানবন্দরের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে কি না। পরীক্ষাগারের ফল হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন