প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের তৈরি পোশাক খাত রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। উদ্যোক্তারা এই পরিস্থিতির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এর ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাকে দায়ী করছেন। এ অবস্থায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সচল রাখতে, আগামী বাজেটে প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শুল্ক পরিশোধে ছাড় দেয়ার প্রস্তাব রাজধানী ঢাকায় বিজিএমইএ তুলে ধরেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি আয় হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সাড়ে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।
বৈশ্বিক সংকটের ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে অর্থনৈতিক মন্দা ধারণা হয়েছে। এর ফলে ভোক্তাদের ব্যয় কমেছে, যা সরাসরি বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ওপর প্রভাব ফেলেছে।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের প্রেসিডেন্ট এস এম আবু তৈয়ব বলেন, যুদ্ধ-বিগ্রহ, নানা প্রতিবন্ধকতা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের বিক্রি কমে যাওয়ার পরিণতি হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকের অর্ডারও হ্রাস পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতির কারণে রফতানি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাকের দামের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। বাজারে মন্দাভাব চলতি বছরের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে ক্রয়াদেশ কিছুটা কমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। তবে, বিজিএমইএ নেতারা আশা করছেন গত তিন মাসের পর ক্রয়াদেশ আবার বৃদ্ধি পাবে।
বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী জানান, বর্তমানে কাজ কিছুটা কম থাকলেও আশা করা হচ্ছে সামনে নতুন অর্ডার আসবে এবং সেই সাথে রফতানিও কিছুটা বাড়বে।
এদিকে, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন ও ভারত বিভিন্ন কৌশলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ধরে রাখতে চেষ্টা করছে। ফলে, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকেও নতুন কৌশল গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা। এ কারণে আগামী বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।
বিজিএমইএর পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী জানান, রফতানি আয়ের ওপর উৎসে কেটে নেয়া কর কমিয়ে ০.৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করে এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করে অন্যান্য কর থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২ হাজার ১০০টি এবং চট্টগ্রামে ৪৬৪টি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন