প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইমরান খানের বোন উজমা খান আবারও সুপ্রিম কোর্টে গেছেন, অভিযোগ করে যে তার ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং তার ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।
বুধবার উজমা খান আদালত অবমাননার একটি আবেদন দাখিল করেছেন।
১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের বিষয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছিল, সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে এই আবেদনটি করা হয়েছে। পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। পাকিস্তানের দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে দেশের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। বিবাদীদের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট সাজিদ বেগ, পাঞ্জাবের কারা বিভাগের মহাপরিদর্শক মিয়ান সালিক জালাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ সরওয়ার রাজা এবং ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চলের প্রধান কমিশনার সোহেল আশরাফ।
উজমা খানের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু সেসব নির্দেশনা এখনও সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি। ওই আদেশে ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খানের সঙ্গে ভার্চুয়াল যোগাযোগের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তার বোনদের প্রতি সপ্তাহে ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
তবে মঙ্গলবার উজমা খান নির্ধারিত সাক্ষাতের জন্য আদিয়ালা কারাগারে গেলে তাকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া গত মার্চ থেকে ইমরান খানের ছেলেদের সঙ্গে অডিও যোগাযোগও সীমিত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাসিম ও সুলাইমানের সঙ্গে দুই সপ্তাহ পরপর টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু সেই নির্দেশও কার্যকর করা হয়নি। এসব কারণে ১৮ আগস্টের আদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছেন উজমা খান।
চিকিৎসার নির্দেশ নিয়েও আদালত অবমাননার অভিযোগ ১৮ আগস্টের সুপ্রিম কোর্টের আদেশের আরেকটি অংশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে এর আগে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছিল।
ওই আদেশে ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তার শারীরিক পরীক্ষা করার কথা ছিল। একই আদেশে ইমরান খানকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের ওই নির্দেশের পরও ইমরান খানকে ২১ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবারও ইমরান খানের স্বজনদের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবির পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের বাধার মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) কারা কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করেছে। পাকিস্তানের দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআই মনে করে, ইমরান খানকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া সুপ্রিম কোর্ট ও ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রকাশ্য লঙ্ঘন। দলটি বলেছে, উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও ইমরান খান ও বুশরা বিবির সঙ্গে তাদের স্বজনদের দেখা করতে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে পিটিআই।
পিটিআই কারা কর্মকর্তাদের আদালতের নির্দেশ ও আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দলটি একই সঙ্গে ইমরান খান ও বুশরা বিবি—দুজনের সঙ্গেই তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত দেখা করার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। দলটির বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে পরিবারের সঙ্গে দেখা এবং তার ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন