প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩ মাসের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এর মধ্যে ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে শুধুমাত্র ঢাকা শহর থেকে।
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সায়েন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানি নিশ্চিত করা যায়।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পেয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১২,০০০ মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর ইটভাটা রয়েছে, যা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্ল্যাক কার্বন নির্গত হচ্ছে।
ইটভাটার বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট বায়ুদূষণের প্রায় ১৩ শতাংশ আসে ইটভাটা থেকে। উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করে এমন ইটভাটাগুলো বন্ধ করা হচ্ছে এবং কাঠের পরিবর্তে কংক্রিট ব্লক ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যাতে দূষণ কমানো সম্ভব হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। কাজটি কঠিন হলেও পেশাদারিত্বের সাথে আমরা তা মোকাবিলা করছি। ইটভাটা বন্ধ না হলে বায়ুর মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ট্রান্স-বাউন্ডারি দূষণের বিষয়ে তিনি জানান, দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ সীমান্ত অতিক্রম করে আসে। ভারতের বেশিরভাগ ভারী শিল্পকারখানা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত, যা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয়। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা এই ৩০ শতাংশ বায়ু দূষণ বন্ধ করা আমাদের জন্য বাস্তবিক অর্থেই কঠিন।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি জানান। সরকার ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বাস ও গাড়ি আমদানির কথাও বলা হয়েছে। এগুলো প্রকৃতিভিত্তিক বায়ুদূষণ সমাধানের উপাদান।
নদী দূষণের বিষয়েও তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু এবং ধলেশ্বরী নদীর ৪২৪টিরও বেশি পয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে শোধন ছাড়াই বিষাক্ত বর্জ্য ও দূষিত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এসব বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্পবর্জ্য, সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য, ঢাকা ওয়াসা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার নির্গমন। ঢাকার চারপাশের এই নদী ও জলাশয়গুলোকে পুনরুদ্ধার করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন