প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দু,দিন ব্যাপী জলসা তাবুতে স্কাউটসদের সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্যাম্প ফায়ারে মুখে রাখা পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানোর ফলে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে আনাস বিল্লাহ নামে দশম শ্রেণীর এক ছাত্র খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এ লোমর্ষক ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি, যার কারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি জানার পর স্কুলের স্কাউটস শিক্ষক শাহীনুর রহমান এবং শরিফুল ইসলামের নিকট একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরও তারা রিসিভ করেননি। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১০ টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে। গুরুতর আহত আনাস বিল্লাহ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের পূর্ব নারায়নপুর গ্রামের গাজী জাকিরুল ইসলামের পুত্র এবং সরকারি কালীগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র।
এমন একটি ঘটনা থানার ৫০ গজ দূরে এবং উপজেলা পরিষদের ২,শ গজ দূরে ঘটলেও বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানার প্রশাসনকে কিছু না জানানোয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়নাল আবেদীন এবং থানার অফিসার্স ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলেও জানান। উপজেলা প্রশাসনকে না জানানোর বিষয়ে সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় অত্র বিদ্যালয়ের স্কাউটসদের দু'দিনব্যাপী বাৎসরিক তাবু জলসার সমাপনী দিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ঐদিনের ক্যাম্প ফায়ারটি ভিডিও ধারণ করে আকর্ষণীয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপস্থিত স্কাউটস শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সামনে আনাস বিল্লাহ মুখে পেট্রোল রেখে কাঠের স্তূপে আগুন দিতে গেলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। পেট্রোলের আগুনের লেলিহান শিখায় আনাস বিল্লাহর মুখমন্ডল পুড়ে ঝলসে যায়। এসময় তাৎক্ষণিকভাবে ঐ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তাররা অপারগতা প্রকাশ করলে সাথে সাথে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এবং তার পিতা ও পরিবারের সদস্যরা জানান যে সে আশঙ্কামুক্ত।
এ প্রসঙ্গে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি না জানানোর কথা স্বীকার করেন এবং বলেন, ঘটনার পর থেকে চিকিৎসার সব খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করছে। তবে দায়িত্বে অবহেলা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কোন সদুত্তর মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়নাল আবেদীন বলেন, "প্রথমে আপনার মুখ দিয়ে জানলাম, এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি, আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন