প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপসংলগ্ন সমুদ্রতল থেকে বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) উত্তোলনের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা পরিচালনা করবে জাপান। শুক্রবার তারা এই সম্পূর্ণ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে।
এর পূর্বে সমুদ্রের ছয় কিলোমিটার গভীর থেকে সফলভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশ, বিশেষত চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এসব মূল্যবান খনিজের ক্ষেত্রে। এসব খনিজ খেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে বায়ু টারবাইনসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির মাধ্যমে টোকিও থেকে এ খবরটি জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, চলতি বছরের শুরুতে গভীর সমুদ্রে খননকারী একটি জাহাজ মিনামি তোরিশিমা দ্বীপের কাছে প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। সেই নমুনাতে ইট্রিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তাকাইচি এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে বলেন, ‘ইট্রিয়াম বিশ্বের একটি বিরল উপাদান। এটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন যন্ত্রের প্রলেপ তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং এটি নির্গমন গ্যাসের ক্ষতিকর নাইট্রোজেন অক্সাইড পরিশোধনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এই উপাদান সেমিকন্ডাক্টর ও মোটরগাড়ি শিল্পে প্রয়োজনীয়। তাই এই খনিজ আমাদের দেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি জানান, ‘এই সাফল্যের ভিত্তিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ খনিজ উত্তোলন পরীক্ষা বছরের পরিকল্পনা রয়েছে।’
তাকাইচি আরও বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করব।’
জাপান এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জ্যামস্টেক) এছাড়া জানিয়েছে, সমুদ্রতল থেকে উত্তোলন করা ৫০ টন উপাদানে আরও দুটি বিরল খনিজ মৌল-গ্যাডোলিনিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়ামের উপস্থিতি মিলেছে।
গত মার্চে তাকাইচি বলেন, টোকিও থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে প্রবালঘেরা মিনামি তোরিশিমা, যেটাকে মিনামিতোরিশিমা নামেও পরিচিত, তার আশপাশে খনিজ উত্তোলন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন।
পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোর মাধ্যমে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ওই এলাকার সমুদ্রতায় কয়েক মিলিয়ন টন বিরল খনিজ থাকতে পারে। যা কয়েক শত বছর ধরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম।
তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, গভীর সমুদ্রে খনিজ উত্তোলন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিরল খনিজ উত্তোলনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং পরিশোধিত বিরল খনিজ উৎপাদনের ৯২ শতাংশই চীনের দখলে।
গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে তাকাইচির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বেইজিংয়ের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়। এরপর জাপানে এসব খনিজের সরবরাহে চীন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
মার্চে কর্মকর্তারা জানান, বেসামরিক লোকজনের বসবাস ও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ মিনামি তোরিশিমা দ্বীপটিকে পারমাণবিক বর্জ্য সংরক্ষণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবেও একটি প্রাথমিকভাবে জরিপ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন