প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৬ জুন, ২০২৬,অবৈধ আত্মঘাতি ড্রেজার (বালু উত্তোলন) ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দাবিকৃত চাঁদার টাকা আনতে গিয়ে তারা গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বিএনপির দুই নেতা। এই ঘটনার পর তাদের দীর্ঘ সময় ধরে আটক করে রাখা হয়েছিলো। পরবর্তীতে লিখিত মুচলেকা দিয়ে জনতার রোষানল থেকে রেহাই পেয়েছেন ওই দুই বিএনপি নেতা।
কারণ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে অভিযুক্ত নেতাদের দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হোসেনের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পদ স্থগিত হওয়া এবং গণপিটুনির শিকার ওই দুই নেতা হলেন- চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান, যিনি জাকির মোল্লা নামে পরিচিত, এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও বালু ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, আত্মঘাতি ড্রেজার মেশিন দিয়ে তিনি বালু উত্তোলন করছিলেন। ওই সময় জাকির মোল্লা ও আব্দুল রাজ্জাক তার কাছে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা চাঁদার টাকা নিতে তারা সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় আসেন। পরে বিষয়টি জহিরুল স্থানীয়দের কাছে জানালে, উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দুই নেতাকে গণপিটুনি দিতে শুরু করেন এবং আটক করে রাখেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
জহিরুল ইসলাম আরো জানান, জাকির মোল্লা ও আব্দুল রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি, খালের মাটি বিক্রি, সালিশ-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ তাদের দ্বারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো।
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন বলেছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ওই দুই নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপিতে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো স্থান নেই। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জাকির মোল্লা বলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল বালু ব্যবসায় অংশীদার হওয়া। তাই তারা আমাদের ডেকে এনে চাঁদা দাবির মিথ্যে অভিযোগ lev ব্যবহার করে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন