প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাতার এনার্জি ইউরোপের কিছু দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা আরও বৃদ্ধি করেছে। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারছে না।
‘ফোর্স মেজর’ হল একটি চুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা অন্য কোনো অনিবার্য ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষ সাময়িকভাবে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালন থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। ব্লুমবার্গের শুক্রবারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহের কিছু চালান বাতিলের ঘটনা অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্যও ‘ফোর্স মেজর’-এর মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য ক্রেতাদেরও একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এডিসন, ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, শুক্রবার কাতারএনার্জির সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, কাতারএনার্জি ইতালিতে তাদের এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখার সময় নভেম্বরের শুরুর দিকে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এডিসন একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কাতারএনার্জি তাদের জানিয়েছে, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি জাহাজের চালান তারা দিতে পারবে না। এর ফলে এডিসনের ক্ষেত্রে এপ্রিলের শুরু থেকে চলমান ‘ফোর্স মেজর’ এর মেয়াদ নভেম্বরের শুরুর দিকে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এডিসনের হিসাব অনুযায়ী, কাতারএনার্জির সরবরাহ দিতে না পারা এলএনজি জাহাজের সংখ্যা বর্তমানে বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে সরবরাহের ঘাটতি পূরণে এডিসন বিকল্প উৎস থেকে গ্যাসের ব্যবস্থা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এর মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের কাছে নিজেদের সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার চেষ্টা করছে।
কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির এলএনজি রপ্তানির একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন দেশে যায়।
কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানিতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ মার্চ প্রথমবার এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম স্থগিত করে কাতারএনার্জি। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে। ‘ফোর্স মেজর’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিশেষ ঘটনা বা পরিস্থিতির কারণে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ বা অন্য কোনো দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না।
হরমুজ প্রণালির সমস্যার পাশাপাশি কাতারের এলএনজি অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে। মার্চে কাতার এনার্জির রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দেশটির জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানির সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা কাতারের এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
জুলাইয়ে কাতারের এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘আল রেকাইয়াত’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। কাতার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। জাহাজে হামলার ঘটনা হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। কাতার এনার্জির সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে এশিয়া ও ইউরোপের এলএনজি ক্রেতাদের বিকল্প উৎসের দিকে যেতে হচ্ছে।
পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ইউরোপের কিছু দেশ কাতারের এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। কাতারএনার্জি সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় এসব দেশের আমদানিকারকদের অন্য উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শীতের আগে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে শুরু করলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কাতারএনার্জির নতুন করে ‘ফোর্স মেজর’ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কাতারের এলএনজি অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের জন্য কাতারের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তীব্র বাধার মুখে গত ৪ মার্চ প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছিল কাতার এনার্জি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন