প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া একটি জ্বালানি চুক্তির পর, রাশিয়ার ডিজেলবাহী একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজের ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, এই চালানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সরাসরি জ্বালানি সরবরাহের সূচনা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিপিং ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান 'কেপলার' (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, মল্টার পতাকাবাহী 'আজিওই ফানেনদেস' (Agioi Fanendes) নামের ট্যাঙ্কারটি গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে প্রায় ৪০,০০০ মেট্রিক টন (প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল) আল্ট্রা-লো-সালফার ডিজেল লোড করে বের হয়েছে।
শুরুতে জাহাজটি নিজের গন্তব্য 'নিউ ইয়র্ক' হিসেবে সিগন্যাল পাঠিয়েছিল, কিন্তু পরে তা পরিবর্তন করে "ফর অর্ডার্স" (for orders) স্ট্যাটাসে রূপান্তরিত হয়েছে। সাধারণত, যখন কোনো জাহাজের চূড়ান্ত খালাস বন্দর এখনো নির্ধারিত থাকে না, তখন এ ধরনের সিগন্যাল ব্যবহার করা হয়। জাহাজটির সম্ভাব্য পৌঁছানোর তারিখ আগামী ৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে প্রথম ট্যাংকারটি ইতিমধ্যেই রওনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত এই সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। এর আগে, ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিটি রাশিয়াকে জ্বালানি তেল রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে পেতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দামের চাপ কমাতে এবং সরবরাহ বাড়াতে সচেষ্ট রয়েছে। বর্তমানে মার্কিন বাজারে জ্বালানির উচ্চ মূল্য একটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুক্তি ঘোষণার পর মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট একটি সাময়িক লাইসেন্স ইস্যু করেছে। ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর এই লাইসেন্সের অধীনে রুশ ডিজেল বিক্রি, ডেলিভারি, খালাস এবং আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩ লাখ টন, নভেম্বরে ৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে এই সরবরাহের গতি সম্পূর্ণরূপে মস্কোর জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখার ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন বাজারে সরাসরি রুশ ডিজেল আমদানি বন্ধ ছিল। বর্তমান এই নতুন উদ্যোগ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সূত্র: কেপলার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন