প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দেওয়া হলেও বৈশ্বিক তেল বাজারে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এই অগ্রগতি এলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তব সরবরাহগত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে, হতে পারে আগামী এক বছর।
বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় বৈশ্বিক বাজারে প্রায় ১১৫ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত কমে এসেছে বৈশ্বিক তেল মজুত।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-র তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক কৌশলগত তেলের মজুত, ১৯৯০ সালের পর, সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুতও গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। একই সাথে, বাণিজ্যিক মজুতেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন সংকটজনক অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, মজুত দ্রুত কমে আসায় সরবরাহ ব্যবস্থা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলেও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান আসছে না। তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল স্বাভাবিক করা, উৎপাদন পুনরায় শুরু করা এবং সরবরাহ চেইন পুনর্গঠন; সব মিলিয়ে এতে সময় লাগবে কয়েক মাস থেকে এক বছর।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমলেও বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি মূলত সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থায়ী প্রতিক্রিয়া। বাস্তব সরবরাহ সংকট মৌলিক বাজারে এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
তাদের ভাষ্য, আগামী দিনে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য না ফিরলে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী চাপের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ভবিষ্যতে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলেও বাজার দীর্ঘ সময় ধরে ওঠানামার মধ্যেই থাকবে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে যাওয়া একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও বৈশ্বিক তেল বাজার এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি এবং তা হতে সময় লাগবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন