প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন যে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়ার ওপর দিয়ে যাওয়া উত্তর সমুদ্রপথে ভারত ও চীনের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে রাশিয়ার তেলবাহী কোনো জাহাজ যদি ইউরোপীয় দেশগুলো আটক করে, তাহলে সেটির বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও তিনি দিয়েছেন।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার ‘ভারিয়াগ’-এর কর্মীদের সঙ্গে এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময়, পুতিন এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, মস্কোর অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে উত্তর সমুদ্রপথ নিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
পুতিন বলেন, চীন ও ভারতসহ রাশিয়ার বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলো এই সমুদ্রপথ ব্যবহারে খুবই আগ্রহী। উক্ত বিষয়ে তাদের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চলছে। তিনি ভারতকে রাশিয়ার বাণিজ্য ও মেরু অঞ্চলের নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, উত্তর সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে চলা হচ্ছে। তবে, আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুতিন অভিযোগ করেছেন যে, উত্তর আটলান্টিক জোটের সম্প্রসারণ এবং বহিরাগত শক্তিগুলোর কার্যক্রমের কারণে ওই অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বিক্রির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে পশ্চিমা দেশগুলো ‘ছায়া বহর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব জাহাজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পুতিন এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো রুশ জাহাজ ইউরোপীয় দেশ আটক করে, তাহলে মস্কো সেটিকে জলদস্যুতার কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলে তিনি জানান।
প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে পুতিন বলেন, রুশ জাহাজ আটক হওয়ার ঘটনা বাস্তবে ঘটলে মস্কোর প্রতিক্রিয়া সামুদ্রিক এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং রাশিয়া যেখানে প্রয়োজন ও উপযুক্ত মনে করবে, সেখানেই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ফলে, একদিকে উত্তর সমুদ্রপথে ভারত ও চীনের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সামুদ্রিক উত্তেজনা- এই দুই দিক থেকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আর্কটিক অঞ্চল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন