প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি শান্তনা খাতুনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার নির্দেশও দিয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহা. হেলাল উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হয় এবং আদালত ২২ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে। মামলায় বাদী, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
রায় ঘোষণার পর বিচারকের এজলাসের সামনে নিহত শিশু সাবার বাবা-মা, স্বজন ও গ্রামবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা চিৎকার করে আসামি শান্তনা খাতুনের ফাঁসির দাবি জানাতে থাকেন। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক আলম রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "সাক্ষ্য-প্রমাণে মামলাটি প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায় গ্রহণযোগ্য নয়।"
যেভাবে হত্যা করা হয় সাবাকে
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের ভ্যানচালক সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রতিবেশী ভ্যানচালক আক্তারুজ্জামান মাসুদের দ্বিতীয় স্ত্রী শান্তনা খাতুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে লাশ কাপড়ে মুড়িয়ে বস্তায় ভরে গোপনে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় রাস্তায় লোকজনের চলাচল দেখে তিনি আবার ঘরে ফিরে যান।
বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শান্তনার বাড়ি ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন। পরে যৌথবাহিনী খাটের নিচ থেকে শিশু সাবার লাশ উদ্ধার করে। ওই রাতেই পুলিশ শান্তনা খাতুনকে আটক করে।
পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় শান্তনা খাতুন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। নিহত সাবার বাবা সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় শান্তনা খাতুনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
সাবা হত্যার বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। মঙ্গলবার রায় ঘোষণার খবর পেয়ে তারাও আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন। ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ
রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত শান্তনা খাতুনকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতের দ্বিতীয়তলা থেকে তাকে বের করে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। এ সময় নিহত শিশুর স্বজনরা বিক্ষোভ করতে থাকেন এবং বারবার শান্তনার ফাঁসির দাবি জানান। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
বিচারক রায়ে বলেন, শিশু সাবা হত্যা মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামির ফাঁসি হওয়া উচিত। তবে আসামি চার বছরের শিশুসন্তানের মা—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, শান্তনা খাতুনের শাওন (১১) ও রুবাইদ নামের দুই সন্তান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন