প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের আনিত যৌন হয়রানির (অনাকাঙ্খিত স্পর্শ) অভিযোগের প্রেক্ষিতে, তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ইতোমধ্যে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শমিষ্ঠা সেন গুপ্তা। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেডিক্যাল কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা জুঁই, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খাদিজা নাসরিন, মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম, বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক সদস্য জিল্লুর রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাস।
এই তদন্ত কমিটিকে তদন্ত কাজ শেষ করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, তদন্ত কমিটি ৪০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছেন। পাশাপাশি, তারা লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান শমিষ্ঠা সেন গুপ্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তদন্তের সময় মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য দেওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর। তবে, তদন্তের স্বার্থে প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজী হননি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এর আগে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, তাড়াশ থানা এবং জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিশেষ নারী তদন্ত টিমের সমন্বয়ে ২২ জুন তদন্ত ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে, ২৩ জুন সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাড়াশ উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকেই তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন, যা ৩০ জুন তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেছে।
জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের আদিবাসী অধ্যুষিত বিষমডাঙ্গা গ্রামে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদ্যালয়টি ২০১২ সালে স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয় এবং বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ নারী শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত রয়েছে। বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজটি সুষ্ঠুভাবে শিক্ষার মান বজায় রেখে পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং এটি উপজেলার মধ্যে অন্যতম আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল।
কিন্তু সম্প্রতি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগ আসছে, যে বিষম ডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের চারজন শিক্ষক ধারাবাহিকভাবে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছেন। যৌন নিপীড়নের শিকার অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থী দরিদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার থেকে আসা। তারা অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষকদের নিপড়নের বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি কিছু নারী শিক্ষার্থী শিক্ষকদের ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললে, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের ফলে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
তবে, বিষম ডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুল আলীম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি নিছক ষড়যন্ত্র। এক ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুসরাত জাহান মন্তব্য করেন, নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষক কর্তৃক যৌন নিপীড়নের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ কারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সে আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন